৪৪/৪৯. অধ্যায়ঃ

সূরা আল-ফাতহ

সূরা ফাতহ নাজিলের ঘটনা ও সুস্পষ্ট বিজয়ের আনন্দ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضى الله عنه يَقُولُ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَكَلَّمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَكَتَ ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَسَكَتَ ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَسَكَتَ فَحَرَّكْتُ رَاحِلَتِي فَتَنَحَّيْتُ وَقُلْتُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ نَزَرْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ لاَ يُكَلِّمُكَ مَا أَخْلَقَكَ أَنْ يَنْزِلَ فِيكَ قُرْآنٌ قَالَ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِي قَالَ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَىَّ هَذِهِ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ‏:‏ ‏(‏إنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا ‏)‏ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مَالِكٍ مُرْسَلاً ‏.‏

‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু বললে তিনি নির্বাক থাকেন। আমি আমার কথার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি এবারও নীরব রইলেন। আমি আমার কথা পুনর্ব্যক্ত করলে তিনি এবারও নীরব থাকেন।অতএব আমি আমার জন্তুজান হাঁকিয়ে একপাশে চলে গেলাম এবং মনে মনে বললাম, “হে খাত্তাবের পুত্র! তোমার মা তোমাকে হারাক। তুমি তিন তিনবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করে বিরক্ত করলে, অথচ একবারও তিনি কথা বলেননি। এখন তোমার প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”তিনি বলেন, “মুহূর্তকাল অতিবাহিত না হতেই আমি শুনতে পেলাম, কে যেন চিৎকার করে আমাকে ডাকছে। অতএব আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ হে ইবনুল খাত্তাব! আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যার পরিবর্তে সারা জগতের সকল কিছু আমাকে দেয়া হলেও আমি তা পছন্দ করব না।” সেই সূরাটি হল (অনুবাদ) “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়” – (সূরা ফাতহ ১)।

সনদ সহীহ, বুখারী (৪৮৩৭)আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। কোন কোন বর্ণনাকারী হাদিসটি মালিক হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৬২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূরা ফাতহ নাজিলের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এক সফরে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তিনবার কথা বললেও তিনি নীরব থাকেন। এতে উমর (রাঃ) নিজের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত হন এবং আশঙ্কা করেন, তাঁর বিষয়ে কোনো আয়াত নাজিল হতে পারে। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ডাকা হয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, সেই রাতে এমন একটি সূরা নাজিল হয়েছে, যার বদলে সারা দুনিয়ার সব কিছু পেলেও তিনি তা পছন্দ করতেন না। এরপর “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি” আয়াতটি উল্লেখ করেন। এখানে সূরা ফাতহের মর্যাদা, ওহির আনন্দ এবং সাহাবীর আত্মসমালোচনা পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। হাদিসটি শেখায়, নবীর নীরবতাকে সম্মান করা এবং নিজের আচরণ যাচাই করা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কথার উত্তর না পেলে অস্থির না হয়ে নিজের আচরণ ভেবে দেখা ভালো।
  • উমর (রাঃ) নিজের সম্ভাব্য ভুল নিয়ে দ্রুত আত্মসমালোচনা করেছিলেন।
  • সূরা ফাতহ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে দুনিয়ার সম্পদের চেয়েও প্রিয় ছিল।
  • ওহির সংবাদ মুমিনের জন্য বড় আনন্দের কারণ হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন