৪৪/৪৮. অধ্যায়ঃ
সূরা মুহাম্মাদ
ঈমান অর্জনে দৃঢ়তা: সালমান ফারসি (রাঃ) ও পারস্যবাসীর প্রশংসা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৬১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৬১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ نَجِيحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ ذَكَرَ اللَّهُ إِنْ تَوَلَّيْنَا اسْتُبْدِلُوا بِنَا ثُمَّ لَمْ يَكُونُوا أَمْثَالَنَا قَالَ وَكَانَ سَلْمَانُ بِجَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخِذَ سَلْمَانَ قَالَ " هَذَا وَأَصْحَابُهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَ الإِيمَانُ مَنُوطًا بِالثُّرَيَّا لَتَنَاوَلَهُ رِجَالٌ مِنْ فَارِسَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ نَجِيحٍ هُوَ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَقَدْ رَوَى عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ الْكَثِيرَ . وَحَدَّثَنَا عَلِيٌّ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কয়েকজন সাহাবী প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা যে বলেছেন, যদি আমরা বিমুখ হই তবে আমাদের বাদে অন্যদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে, তারপর তারা আমাদের ন্যায় হবে না, সেসব ব্যক্তি কারা? বর্ণনাকারী বলেন, সালমান ফারসি (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটেই ছিলেন। সালমান (রাঃ) এর উরুতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃদু আঘাত করে বলেন, ইনি ও তার সাথীরা। সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! ঈমান যদি সুরাইয়া নক্ষত্রের সাথেও ঝুলন্ত থাকত, তবুও পারস্যের কিছু ব্যক্তি তা নিয়ে আসত।
সহীহঃ প্রাগুপ্ত, বুখারী ও মুসলিমে হাদীসের শেষ অংশ বর্ণিত হয়েছে।আবূ ‘ঈসা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার ইবনু নাজীহ হলেন ‘আলী ইবনু মাদীনীর পিতা। ‘আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফারের সূত্রে অনেক কিছু বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘আলী (রহঃ)-ইসমাঈল ইবনু জা’ফার ইবনু নাজীহ সূত্রে ‘আবদুল্লাহ ইবনু জ্জা’ফার হতে। বিশর ইবনু মি’আয ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার হতে, তিনি আলা-‘আলা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে তাতে ‘মানুতান শব্দের পরিবর্তে’ মু’আল্লাকান শব্দ আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈমান অর্জনে দৃঢ়তা। সাহাবীরা জানতে চেয়েছিলেন, মুসলিমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ যাদের প্রতিষ্ঠিত করবেন তারা কারা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পাশে থাকা সালমান ফারসি (রাঃ)-এর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি ও তাঁর সাথীরা সেই মানুষের অন্তর্ভুক্ত। এরপর একটি শক্তিশালী উদাহরণ দিয়ে জানান, ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রের মতো বহু দূরে থাকলেও পারস্যের কিছু মানুষ তা অর্জন করত। কথাটি কোনো জাতিগত অহংকার শেখায় না; বরং সত্যের জন্য গভীর আগ্রহ, পরিশ্রম ও অটলতার প্রশংসা করে। তাই “ঈমানের গুরুত্ব”, “সালমান ফারসি হাদিস” এবং “পারস্যবাসীর ঈমান” খুঁজলে এই বর্ণনার মূল শিক্ষা সামনে আসে—সত্যের পথ দূর মনে হলেও আন্তরিক মানুষ তা পাওয়ার চেষ্টা ছাড়ে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমান অর্জনের জন্য আন্তরিক চেষ্টা ও দৃঢ়তা মূল্যবান।
- সালমান ফারসি (রাঃ) ও তাঁর সাথীদের ঈমানি যোগ্যতার প্রশংসা করা হয়েছে।
- সত্য অনেক দূরের মনে হলেও তা পাওয়ার আশা ও চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
- দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ অন্যদের মাধ্যমে সত্যের কাজ এগিয়ে নিতে পারেন।
