৪৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
সূরা সাদ
কাফফারা ও মর্যাদা বৃদ্ধির আমল এবং গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৩৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৩৩
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَانِي اللَّيْلَةَ رَبِّي تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ قَالَ أَحْسَبُهُ قَالَ فِي الْمَنَامِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قَالَ قُلْتُ لاَ . قَالَ فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَىَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَىَّ أَوْ قَالَ فِي نَحْرِي فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ قَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فِي الْكَفَّارَاتِ . وَالْكَفَّارَاتُ الْمُكْثُ فِي الْمَسَاجِدِ بَعْدَ الصَّلَوَاتِ وَالْمَشْىُ عَلَى الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ وَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وَكَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِذَا صَلَّيْتَ فَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ قَالَ وَالدَّرَجَاتُ إِفْشَاءُ السَّلاَمِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَالصَّلاَةُ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আজ রাতে আমার মহান ও বরকতময় প্রভু সবচেয়ে সুন্দর চেহারায় আমার নিকট এসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মতে তিনি বলেছেনঃ ঘুমের মধ্যে স্বপ্নযোগে। তারপর তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি কি জান, এ সময় উচ্চতর জগতের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিবাদ করছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি বললাম, না। তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মধ্যখানে রাখলেন। এমনকি আমি আমার দুই স্তনের বা বুকের মাঝে এর শীতলতা অনুভব করলাম। আসমান-জমীনে যা কিছু আছে আমি তা অবগত হলাম।তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি কি জান, এ সময় উচ্চতর জগতের অধিবাসীরা কি নিয়ে বিবাদ করছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ, কাফ্ফারা নিয়ে বিবাদ করছে। কাফ্ফারা অর্থঃ(১) নামাজের পর মসজিদে বসে থাকা,(২) নামাজের জামাতে উপস্থিতির জন্য হেঁটে যাওয়া এবং(৩) কষ্টকর সময়েও সুন্দরভাবে ওজু করা।যে লোক এসব কাজ করবে সে কল্যাণের মধ্যে বেঁচে থাকবে, কল্যাণের সাথে মরবে এবং তার জন্ম দিনের মত গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যাবে।আল্লাহ তা'আলা আরো বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! তুমি যখন সালাত আদায় করবে তখন এই দোয়া পড়বেঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফি'আলাল খাইরাতি ওয়া তারকাল মুনকারাতি ওয়া হুব্বাল মাসাকিনী ওয়া ইজা আরাদতা বি-ইবাদিকা ফিতনাতান ফাক্ববিযনী ইলাইকা গাইরা মাফতূনিন!” (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ভাল কাজ করার, খারাপ কাজ ত্যাগ করার এবং গরীব-নিঃস্বদের ভালবাসার কামনা করি। তুমি যখন তোমার বান্দাদের কঠিন পরীক্ষায় নিক্ষেপ করার ইচ্ছা কর, তখন আমাকে এ ফিতনায় জড়িয়ে পড়ার আগেই তোমার নিকট তুলে নাও)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেনঃ দারাজাত ও মর্যাদার স্তর বলতে বুঝায়ঃ• সালামের প্রচার বিস্তার করা,• মানুষকে খাওয়ানো এবং• রাতের অন্ধকারে মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে তখন (তাহাজ্জুদ) নামাজ আদায় করা।
সহীহঃ আয্ যিলা-ল (৩৮৮), তা’লীকুর রাগীব (১/৯৮, ১২৬/১)।আবূ ‘ঈসা বলেন, বর্ণনাকারীগণ আবূ ক্বিলাবাহ্ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মধ্যখানে আরোও একজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন। ক্বাতাদাহ্ এ হাদীস আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে, তিনি খালিদ ইবনুল লাজলাজ হতে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে, এই সনদে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৩৩-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কাফফারা ও মর্যাদা। এই হাদিসে স্বপ্নের মধ্যে উচ্চতর জগতের অধিবাসীদের আলোচনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জানানো হয়। কাফফারার কাজ হিসেবে তিনটি আমল বলা হয়েছে: নামাজের পর মসজিদে বসে থাকা, জামাতে উপস্থিত হতে হেঁটে যাওয়া এবং কষ্টকর অবস্থাতেও সুন্দরভাবে ওজু করা। এরপর একটি দোয়া শেখানো হয়েছে—ভালো কাজ করা, মন্দ কাজ ছেড়ে দেওয়া, দরিদ্রদের ভালোবাসা এবং ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার প্রার্থনা। মর্যাদা বৃদ্ধির কাজ হিসেবে সালাম ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষকে খাবার খাওয়ানো এবং রাতে মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে নামাজ পড়ার কথা এসেছে। হাদিসে এসব আমল পালনকারীর কল্যাণময় জীবন, মৃত্যু এবং গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্ণনাটি ইবাদত, মানুষের সেবা ও সুন্দর সামাজিক আচরণকে একসঙ্গে ধরে। তাই কেবল ব্যক্তিগত নামাজ নয়; সালাম, খাবার দেওয়া ও দরিদ্রদের ভালোবাসাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজের পর মসজিদে থাকা কাফফারার আমলের মধ্যে এসেছে।
- জামাতে হেঁটে যাওয়া ও কষ্টে পূর্ণ ওজুর মর্যাদা আছে।
- সালাম ছড়ানো, খাবার দেওয়া ও রাতের নামাজ মর্যাদা বাড়ায়।
- ভালো কাজ, মন্দ ত্যাগ ও দরিদ্রদের ভালোবাসার দোয়া শেখানো হয়েছে।
