৪৪/২৬. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-ফুরক্বান
কবিরা গুনাহের ভয়াবহতা: শিরক, সন্তান হত্যা ও যিনা
জামে তিরমিযী : ৩১৮৩
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৮৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ أَبُو زَيْدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاصِلٍ الأَحْدَبِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ قَالَ " أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ وَأَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مِنْ أَجْلِ أَنْ يَأْكُلَ مَعَكَ أَوْ مِنْ طَعَامِكَ وَأَنْ تَزْنِيَ بِحَلِيلَةِ جَارِكَ " . قَالَ وَتَلاَ هَذِهِ الآيَةَ : (والَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا * يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا ) . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ وَالأَعْمَشِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ عَنْ وَاصِلٍ لأَنَّهُ زَادَ فِي إِسْنَادِهِ رَجُلاً .
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলাম, সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ কোনটি? তিনি বলেনঃ (১) আল্লাহর সাথে কাউকে তোমার শরীক বানানো অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন; (২) তোমার সন্তানেরা তোমার সাথে আহার করবে বা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই ভয়ে তাদেরকে হত্যা করা; (৩) তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার যিনা করা। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ)ঃ “যারা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদকে ডাকে না, আল্লাহ যাকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তাকে হত্যা করে না এবং ব্যাভিচারেও জড়িত হয় না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কেয়ামতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অনন্তকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় থাকবে।”-(সূরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯)।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, প্রাগুপ্ত।আবূ ঈসা বলেন, মানসুর ও আ’মাশ এর সনদে বর্ণিত সুফইয়ানের হাদীসটি ওয়াসিলের সনদে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় অনেক বেশী সহীহ। কেননা তিনি (ওয়াসিল) টার সনদে আরো একজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না-মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফার হতে,তিনি শু’বাহ হতে, তিনি ওয়াসিল হতে, তিনি আবূ ওয়াইয়িল হতে,তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে, এ সুত্রে উপরের হাদিসের মত বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আম্র ইবনু শুরাহবীলের উল্লেখ নেই।
জামে তিরমিযী হাদিস ৩১৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহের প্রশ্নের জবাবে তিনটি অপরাধ বলা হয়েছে। প্রথমটি হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা, যদিও তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো সন্তান খাবারে ভাগ বসাবে—এই আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা। তৃতীয়টি হলো প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করা। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সূরা আল-ফুরকানের ৬৮-৬৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন। সেখানে আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যকে না ডাকা, অন্যায়ভাবে প্রাণ হত্যা না করা এবং ব্যভিচারে না জড়ানোর কথা এসেছে। একই সঙ্গে এসব কাজে জড়ালে শাস্তির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি কবিরা গুনাহ সম্পর্কে শুধু একটি তালিকা দেয় না; কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে বিষয়গুলোর গুরুতর পরিণতিও মনে করিয়ে দেয়। তাই তাওহীদ রক্ষা, মানুষের জীবন নিরাপদ রাখা এবং অবৈধ যৌন সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা—এই তিনটি শিক্ষা এখানে খুব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদের বিপরীত শিরককে হাদিসে মারাত্মক গুনাহ বলা হয়েছে।
- অভাবের আশঙ্কা সন্তানের জীবন নেওয়ার অজুহাত হতে পারে না।
- প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে যিনা পাপের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গও যুক্ত করে।
- কুরআনের সতর্কতা মানুষকে গুনাহের পরিণতি মনে রাখতে শেখায়।
