৪৪/২০. অধ্যায়ঃ
সূরা মারইয়াম
ঈমানের দৃঢ়তা: পাওনা হারালেও সত্য অস্বীকার নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৬২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৬২
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَمِعْتُ خَبَّابَ بْنَ الأَرَتِّ، يَقُولُ جِئْتُ الْعَاصِيَ بْنَ وَائِلٍ السَّهْمِيَّ أَتَقَاضَاهُ حَقًّا لِي عِنْدَهُ فَقَالَ لاَ أُعْطِيكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ . فَقُلْتُ لاَ حَتَّى تَمُوتَ ثُمَّ تُبْعَثَ . قَالَ وَإِنِّي لَمَيِّتٌ ثُمَّ مَبْعُوثٌ فَقُلْتُ نَعَمْ . فَقَالَ إِنَّ لِي هُنَاكَ مَالاً وَوَلَدًا فَأَقْضِيكَ . فَنَزَلَتْ : ( أَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لأُوتَيَنَّ مَالاً وَوَلَدًا ) الآيَةَ .
মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আমার একটি স্বত্ব আস ইবনু ওয়ায়েল আস-সহমীর জিম্মায় ছিল। এ ব্যাপারে তাগাদা দেয়ার উদ্দেশ্যে আমি তার নিকট গেলাম। সে বলল, যে পর্যন্ত তুমি মুহাম্মদের (ﷺ) নবুওয়াত অস্বীকার না করবে, সে পর্যন্ত আমি তোমার স্বত্ব ফিরিয়ে দেব না। আমি বললাম, তুমি মৃত্যুর পর কেয়ামত দিবসে আবার জীবিত হয়ে না উঠা পর্যন্ত তা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।সে বলল, আমি মৃত্যুবরণ করব এবং আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও সেখানে থাকবে আর সেখানে তোমার পাওনাটা ফিরিয়ে দেব। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়ঃ “তুমি কি সেই লোককে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং সে বলেছে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ধন্য করা হবে”-(সূরা মারইয়াম ৭৭)।
সহীহঃ বুখারী (৪৭৩২), মুসলিম।হান্নাদ-আবূ মু‘আবিয়াহ হতে, তিনি আ‘মাশ (রহঃ) হতে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ)-এর ঈমানের দৃঢ়তা তুলে ধরা হয়েছে। আস ইবনু ওয়ায়েলের কাছে তাঁর একটি পাওনা ছিল। তিনি সেই পাওনা চাইতে গেলে আস বলে, মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم)-এর নবুওয়াত অস্বীকার না করা পর্যন্ত টাকা ফেরত দেবে না। খাব্বাব (রাঃ) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান না হওয়া পর্যন্তও তিনি এমন কথা বলতে পারবেন না। অর্থাৎ পাওনা সম্পদ ফেরত পাওয়ার জন্যও তিনি নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করেননি। আস ইবনু ওয়ায়েল পুনরুত্থান নিয়ে বিদ্রূপ করে দাবি করেছিল, আখিরাতেও তার সম্পদ ও সন্তান থাকবে এবং তখন সে পাওনা শোধ করবে। এ কথার পর সূরা মারইয়ামের আয়াত নাজিল হয়। হাদিসটি শেখায়, আর্থিক অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঈমানের বিনিময়ে কোনো পার্থিব সুবিধা নেওয়া যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ বা পাওনার জন্য ঈমানের সঙ্গে আপস করা ঠিক নয়।
- খাব্বাব (রাঃ) কঠিন চাপের মধ্যেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি বিশ্বাস অটুট রেখেছিলেন।
- মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ইসলামী বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিদ্রূপ ও ভিত্তিহীন দাবি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
