৪৪/১৯. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-কাহফ
ইখলাসের গুরুত্ব: আমলে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১৫৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৫৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي سَعْدِ بْنِ أَبِي فَضَالَةَ الأَنْصَارِيِّ، وَكَانَ، مِنَ الصَّحَابَةِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا جَمَعَ اللَّهُ النَّاسَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ لِيَوْمٍ لاَ رَيْبَ فِيهِ نَادَى مُنَادٍ مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمِلَهُ لِلَّهِ أَحَدًا فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ بَكْرٍ .
আবূ সা‘ঈদ ইবনু আবী ফাযালাহ আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : আল্লাহ তা’আলা যখন কেয়ামত দিবসে, যে দিনের আগমন প্রসঙ্গে কোন সন্দেহ নেই, মানুষদেরকে একত্র করবেন, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবে : আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি আমল করতে এর মধ্যে কাউকে শরীক করেছে, সে যেন গাইরুল্লাহর নিকট নিজের সাওয়াব চেয়ে নেয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা শরীকদের শিরক হতে সম্পূর্ণ মুক্ত।
সহীহ : ইবনু মা-জাহ (৪২০৩)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এ হাদীস শুধু মুহাম্মাদ ইবনু বাকর-এর সূত্রে জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ইখলাস। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেয়ামতের দিন মানুষ একত্র হলে ঘোষণা করা হবে—যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো আমল করেছে, কিন্তু সেই আমলে অন্য কাউকেও শরিক করেছে, সে যেন তার সওয়াব আল্লাহ ছাড়া সেই অন্যজনের কাছেই চায়। কারণ আল্লাহ শিরক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। হাদিসটি আমলের বাহ্যিক রূপের চেয়ে উদ্দেশ্যের গুরুত্ব স্পষ্ট করে। নামাজ, দান, দাওয়াত বা অন্য ভালো কাজ দেখতে সুন্দর হতে পারে; কিন্তু এই বর্ণনার সতর্কতা হলো, আল্লাহর জন্য করা কাজে মানুষের প্রশংসা বা সন্তুষ্টিকে অংশীদার বানানো বিপজ্জনক। এখানে প্রতিটি মানুষের অন্তরের চূড়ান্ত বিচার করার অনুমতি নেই। বরং নিজের নিয়ত পরীক্ষা করাই মূল কাজ। কাজ শুরুর আগে, কাজের সময় এবং কাজের পর—কার সন্তুষ্টি চাইছি, তা মনে রাখা ইখলাস রক্ষায় সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর জন্য করা আমল শুধু তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত।
- মানুষের প্রশংসাকে আমলের অংশীদার বানানো থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- অন্যের নিয়ত বিচার না করে নিজের নিয়ত ঠিক করা জরুরি।
- কেয়ামতের সওয়াব আল্লাহর কাছেই চাওয়া যায়, যদি আমল তাঁর জন্য খাঁটি হয়।
