৪৪/১২. অধ্যায়ঃ
সূরা হূদ
ওজু ও সালাতের মাধ্যমে ভুলের পর ভালো কাজে ফেরা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩১১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১১৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً لَقِيَ امْرَأَةً وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا مَعْرِفَةٌ فَلَيْسَ يَأْتِي الرَّجُلُ شَيْئًا إِلَى امْرَأَتِهِ إِلاَّ قَدْ أَتَى هُوَ إِلَيْهَا إِلاَّ أَنَّهُ لَمْ يُجَامِعْهَا . قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ( أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ) فَأَمَرَهُ أَنْ يَتَوَضَّأَ وَيُصَلِّيَ . قَالَ مُعَاذٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَهِيَ لَهُ خَاصَّةً أَمْ لِلْمُؤْمِنِينَ عَامَّةً قَالَ " بَلْ لِلْمُؤْمِنِينَ عَامَّةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُعَاذٍ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ مَاتَ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ وَقُتِلَ عُمَرُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى غُلاَمٌ صَغِيرٌ ابْنُ سِتِّ سِنِينَ وَقَدْ رَوَى عَنْ عُمَرَ وَرَآهُ . وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلٌ .
মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি এক বেগানা নারীর সাথে যৌন মিলন ছাড়া আর সবই করেছে, তার প্রসঙ্গে আপনার কি মত? তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন: “তুমি সালাত কায়েম কর দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। সৎকর্মসমূহ অবশ্যই অসৎ কর্মসমূহ দূর করে দেয়। যারা হিদায়াত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটা হিদায়াত” (সূরা হূদ ১১৪)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ওজু করে এসে সালাত আদায়ের হুকুম দেন। মুয়ায (রাঃ) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই সুযোগ কি শুধু তার জন্যই না সাধারণভাবে সকল মুমিনের জন্য? তিনি বললেন: বরং সাধারণভাবে সকল মুমিনদের জন্য।
সনদ দুর্বলআবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদসূত্র মুত্তাসিল (পরস্পর সংযুক্ত) নয়। আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে সরাসরি কিছু শুনেননি। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) উমার (রাঃ)-এর খিলাফাত কালে ইন্তেকাল করেন। উমর (রাঃ) যখন ইন্তেকাল করেন তখন আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা ছয় বছরের বালক। তিনি উমার (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি তাকে দেখেছেন। শুবা (রহঃ) এ হাদীসটি আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে আবদুর রহমান ইবনু আবূ লাইলা-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান, তিনি এক বেগানা নারীর সঙ্গে যৌন মিলন ছাড়া অন্য অনুচিত আচরণ করেছেন। তখন সূরা হূদের ১১৪ নম্বর আয়াত নাজিল হয়—দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের প্রথম অংশে সালাত কায়েম করতে হবে এবং সৎকাজ অসৎকাজ দূর করে দেয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) লোকটিকে ওজু করে সালাত আদায় করতে বলেন। মুয়ায (রাঃ) জানতে চান, এই নির্দেশ কি শুধু ওই ব্যক্তির জন্য, নাকি সব মুমিনের জন্য। উত্তরে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এটি সাধারণভাবে সব মুমিনের জন্য। হাদিসের মূল বিষয় হলো, ভুলের পর পবিত্রতা অর্জন, সালাত এবং ভালো কাজে ফিরে আসা। তবে বর্ণনার শেষে সনদ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথাও উল্লেখ আছে। তাই ঘটনাটির ভাষা যেমন এসেছে, তেমনভাবেই উপস্থাপন করা উচিত এবং এর বাইরে বাড়তি শাস্তি বা নিশ্চয়তা যোগ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুলের পর ওজু করে সালাত আদায়ের নির্দেশ এই বর্ণনায় এসেছে।
- সৎকাজ অসৎকাজ দূর করার কারণ হয়—আয়াতটি এ শিক্ষা দেয়।
- নির্দেশটি কেবল একজনের জন্য নয়; সাধারণভাবে মুমিনদের জন্য বলা হয়েছে।
- বর্ণনায় সহবাস না হওয়ার শর্তটি স্পষ্ট, তাই ঘটনাটির সীমা ঠিক রাখতে হবে।
