৪৪/১০. অধ্যায়ঃ
সূরা আত-তাওবা
উৎকৃষ্ট সম্পদ: জিকিরকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ অন্তর ও ঈমানদার স্ত্রী
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৯৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৯৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ : ( وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ ) قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ أُنْزِلَ فِي الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ مَا أُنْزِلَ . لَوْ عَلِمْنَا أَىُّ الْمَالِ خَيْرٌ فَنَتَّخِذَهُ فَقَالَ " أَفْضَلُهُ لِسَانٌ ذَاكِرٌ وَقَلْبٌ شَاكِرٌ وَزَوْجَةٌ مُؤْمِنَةٌ تُعِينُهُ عَلَى إِيمَانِهِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . سَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ فَقُلْتَ لَهُ سَالِمُ بْنُ أَبِي الْجَعْدِ سَمِعَ مِنْ ثَوْبَانَ فَقَالَ لاَ . فَقُلْتُ لَهُ مِمَّنْ سَمِعَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعَ مِنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَذَكَرَ غَيْرَ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“যারা সোনা ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে পীড়াদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও’ - (সূরা আত-তাওবা ৩৪), এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে ভ্রমণে ছিলাম। কোন কোন সাহাবী বলেন, এ আয়াতটি সোনা ও রূপার সমালোচনায় অবতীর্ণ হয়েছে। কোন সম্পদ উৎকৃষ্ট আমরা তা জানতে পারলে তা জমা করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন উৎকৃষ্ট সম্পদ হল (আল্লাহ তা’আলার) জিকিরকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ অন্তর ও ঈমানদার স্ত্রী, যে স্বামীকে দীনদারির ব্যাপারে সহযোগিতা করে।
সহীহ : ইবনু মা-জাহ (১৮৫৬)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান । আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করে বললাম, সালিম ইবনু আবুল জা'দ (রহঃ) সাওবান (রাঃ) হতে হাদীস শুনেছেন কি? তিনি বললেন, না। আমি তাকে বললাম, তাহলে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাহাবীগণের মধ্যে কার নিকটে শুনেছেন? তিনি বললেন, তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট শুনেছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর আরো কয়েকজন সাহাবীর নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় মানুষের উৎকৃষ্ট সম্পদ। সোনা ও রূপা জমিয়ে রাখা এবং আল্লাহর পথে ব্যয় না করার আয়াত নাজিল হলে সাহাবিদের কেউ জানতে চেয়েছিলেন—কোন সম্পদ উত্তম, যাতে তা গ্রহণ করা যায়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উত্তরে তিনটি বিষয় বলেন: আল্লাহকে স্মরণকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ অন্তর এবং ঈমানদার স্ত্রী, যিনি স্বামীকে তার ঈমানের কাজে সাহায্য করেন। এখানে সম্পদের ধারণা শুধু টাকা বা ধাতুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। মানুষের মুখের জিকির, অন্তরের কৃতজ্ঞতা এবং সংসারে দীনদার সহযোগী—এসবকেও মূল্যবান সম্পদ বলা হয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বাহ্যিক সম্পদের পাশাপাশি ঈমানকে শক্ত করে এমন গুণ ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে বর্ণনায় যে তিনটি বিষয় এসেছে, ব্যাখ্যাও সেগুলোর মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে স্মরণকারী জিহ্বাকে উৎকৃষ্ট সম্পদের অংশ বলা হয়েছে।
- কৃতজ্ঞ অন্তর মানুষের মূল্যবান নিয়ামত ও সম্পদ।
- ঈমানদার স্ত্রী স্বামীকে দীনদারির কাজে সাহায্য করেন।
- সম্পদের মূল্য শুধু সোনা-রূপা দিয়ে মাপা হয় না।
