৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
সূরা আন-নিসা
সালাতুল খাওফের নিয়ম: নামাজ ও নিরাপত্তা একসঙ্গে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৩৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৩৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْهُنَائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ بَيْنَ ضَجْنَانَ وَعُسْفَانَ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ إِنَّ لِهَؤُلاَءِ صَلاَةً هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَبْنَائِهِمْ وَهِيَ الْعَصْرُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ فَمِيلُوا عَلَيْهِمْ مَيْلَةً وَاحِدَةً وَإِنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يَقْسِمَ أَصْحَابَهُ شَطْرَيْنِ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ وَتَقُومَ طَائِفَةٌ أُخْرَى وَرَاءَهُمْ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي الآخَرُونَ وَيُصَلُّونَ مَعَهُ رَكْعَةً وَاحِدَةً ثُمَّ يَأْخُذُ هَؤُلاَءِ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ فَتَكُونُ لَهُمْ رَكْعَةٌ رَكْعَةٌ وَلِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَانِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ وَابْنِ عُمَرَ وَحُذَيْفَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ وَأَبُو عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ اسْمُهُ زَيْدُ بْنُ صَامِتٍ .
আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরাইরা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'যুজনান' ও 'উসফান' নামক জায়গার মাঝে যাত্রাবিরতি করলেন। মুশরিকরা বলল, তাদের নিকট একটি নামাজ আছে যা তাদের বাপ-দাদা ও সন্তান-সন্ততির চাইতেও বেশি প্রিয়। সেটি হচ্ছে, আসরের নামাজ। কাজেই তোমরা নিজেদের যাবতীয় সাজ-সরঞ্জাম প্রস্তুত করে সংকল্পবদ্ধ হয়ে থাক এবং তাদের উপর (নামাযরত অবস্থায়) ঝটিকা আক্রমণ চালাও।এদিকে জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-কে নির্দেশ দিলেন, আপনার সঙ্গীদের দুই ভাগে বিভক্ত করুন। এক অংশকে নিয়ে আপনি নামাজ আদায় করুন। অন্য দল নামাজরতদের পেছনে তাদের ঢাল ও অস্ত্র নিয়ে সতর্ক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবে।এরপর দ্বিতীয় দল (যারা নামাজ আদায় করেনি) আসবে। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক রাকাত নামাজ আদায় করবে। তারপর তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্রসহ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। ফলে তাদের (উভয় দলের) এক এক রাকাত হবে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হবে দুই রাকাত।
সনদ সহীহ।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, আবূ হুরাইরাহ্র বরাতে ‘আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্বের হাদীস হিসেবে গারীব। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, যাইদ ইবনু সাবিত, ইবনু ‘আব্বাস, জাবির, আবূ ‘আইয়্যাশ আয –যুরাকী, ইবনু ‘উমার, হুযাইফাহ, আবূ বাকরাহ ও সাহল ইবনু আবী হাসমা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘আইয়্যাশ আয –যুরাকীর নাম যাইদ ইবনু সামিত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৩৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ভয়ের নামাজ। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যুজনান ও উসফানের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করলে মুশরিকরা আসরের নামাজের সময় আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা করে। তারা জানত, এই নামাজ মুসলিমদের কাছে খুব প্রিয়। তখন জিবরীল (আঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সাহাবিদের দুই ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দেন। একদল তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করবে, আরেকদল ঢাল ও অস্ত্র নিয়ে পেছনে সতর্ক থাকবে। এরপর দ্বিতীয় দল এসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে এক রাকাত পড়বে এবং প্রথম দল নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। ফলে উভয় দলের এক রাকাত করে হবে এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দুই রাকাত হবে। হাদিসটি দেখায়, বিপদের সময়ও নামাজ ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং নিরাপত্তা বজায় রেখে ইবাদতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা, দলবদল, অস্ত্র প্রস্তুত রাখা এবং শত্রুর কৌশল সম্পর্কে সতর্ক থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়। ইবাদত ও বাস্তব নিরাপত্তা—দুটিকেই গুরুত্ব দিয়ে সমন্বয় করা এই বর্ণনার কেন্দ্রীয় দিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদের সময়ও নামাজের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- নিরাপত্তার জন্য দল ভাগ ও সতর্ক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- ইবাদতের পাশাপাশি বাস্তব ঝুঁকির প্রস্তুতিও প্রয়োজন।
- শত্রুর পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন থেকে সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে।
