৪৪/৫. অধ্যায়ঃ

সূরা আন-নিসা

ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি: কিয়ামতে নিহত ব্যক্তির অভিযোগ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০২৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَجِيءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاصِيَتُهُ وَرَأْسُهُ بِيَدِهِ وَأَوْدَاجُهُ تَشْخُبُ دَمًا يَقُولُ يَا رَبِّ هَذَا قَتَلَنِي حَتَّى يُدْنِيَهُ مِنَ الْعَرْشِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَذَكَرُوا لاِبْنِ عَبَّاسٍ التَّوْبَةَ فَتَلاَ هَذِهِ الآيَةََ‏:‏ ‏(‏وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا ‏)‏ قَالَ وَمَا نُسِخَتْ هَذِهِ الآيَةُ وَلاَ بُدِّلَتْ وَأَنَّى لَهُ التَّوْبَةُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ ‏.‏

ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি নিজ হাতে তার হত্যাকারীকে তার কপালের চুল ও মাথা ধরে নিয়ে আসবে। তার ঘাড়ের কর্তিত রগসমূহ হতে রক্ত বের হতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! এ লোক আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে তার হত্যাকারীকে নিয়ে আরশের নিকট পৌঁছে যাবে। ‘আমর ইবনু দীনার বলেন, লোকেরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট (হত্যাকারীর) তাওবার বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): “কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন”– (সূরা আন–নিসা ৯৩)। এ আয়াত মানসুখও হয়নি বা তার বিধান পরিবর্তিতও হয়নি। অতএব তার আর তাওবা কিসের।

সহীহ : মিশকাত তাহক্বীক্ব সানী (৩৪৬৫), তালীকুর রাগীব (৩/২০৩)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান (গারীব)। কেউ কেউ এ হাদীসটি ‘আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা মারফূ হিসেবে নয়।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২৯-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: ইচ্ছাকৃত হত্যা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে ধরে আল্লাহর দরবারে নিয়ে আসবে। তার কাটা রগ থেকে রক্ত বের হতে থাকবে এবং সে বলবে, এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। বর্ণনাটি অন্যায় হত্যার ভয়াবহতা খুব শক্তভাবে সামনে আনে। এরপর ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে হত্যাকারীর তাওবা নিয়ে আলোচনা হলে তিনি সূরা আন-নিসার সেই আয়াত পড়েন, যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিনকে হত্যার জন্য জাহান্নাম, আল্লাহর রোষ, অভিশাপ এবং বড় শাস্তির কথা আছে। তিনি বলেন, আয়াতটি রহিত বা পরিবর্তিত হয়নি এবং এই বর্ণনায় তাওবার বিষয়ে কঠোর মত প্রকাশ করেন। এখানে আমাদের ব্যাখ্যা বর্ণনার সীমার মধ্যেই রাখা জরুরি। মূল শিক্ষা হলো, মানুষের জীবন নেওয়া কোনো হালকা অপরাধ নয়। দুনিয়ায় ঘটনা গোপন হলেও কিয়ামতের বিচারে নিহতের দাবি সামনে আসবে। তাই রাগ, শত্রুতা বা স্বার্থের কারণে রক্তপাত থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইচ্ছাকৃত হত্যা কিয়ামতে কঠিন জবাবদিহির কারণ হবে।
  • নিহত ব্যক্তি আল্লাহর সামনে হত্যাকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে।
  • মানুষের জীবন ও রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
  • এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) হত্যাকারীর তাওবা বিষয়ে কঠোর মত প্রকাশ করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন