৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
সূরা আন-নিসা
কবীরা গুনাহ: শিরক, অবাধ্যতা, হত্যা ও মিথ্যা কথা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০১৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০১৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْكَبَائِرِ قَالَ " الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْسِ وَقَوْلُ الزُّورِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ . وَرَوَاهُ رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ وَقَالَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ وَلاَ يَصِحُّ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কাবীরা গুনাহ প্রসঙ্গে বলেনঃ তা হচ্ছে আল্লাহর সাথে শরীক করা, বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া, নরহত্যা করা ও মিথ্যা বলা।
সহীহ : গাইয়াতুল মারাম (২৭৭), বুখারী ও মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ (রহঃ) শু’বাহ (রহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদে (বর্ণনাকারীর নাম ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর -এর পরিবর্তে) ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর বলেছেন, তা সঠিক নয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চারটি কবীরা গুনাহের নাম বলেছেন। প্রথমটি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা। দ্বিতীয়টি বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া। তৃতীয়টি অন্যায়ভাবে মানুষের প্রাণ নেওয়া। চতুর্থটি মিথ্যা কথা বলা। হাদিসটির ভাষা ছোট হলেও সতর্কতা খুব স্পষ্ট। আল্লাহর অধিকারের বিরুদ্ধে শিরক, বাবা-মায়ের অধিকারের বিরুদ্ধে অবাধ্যতা, মানুষের জীবনের বিরুদ্ধে হত্যা এবং সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা—চারটি ভিন্ন ধরনের বড় অপরাধ এখানে একসঙ্গে এসেছে। কবীরা গুনাহের তালিকা জানতে যারা খোঁজ করেন, তাদের জন্য হাদিসটি সরাসরি একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দেয়। তবে হাদিসে সব কবীরা গুনাহের পূর্ণ তালিকা দেওয়ার দাবি করা হয়নি। এই বর্ণনায় যে চারটি অপরাধের নাম এসেছে, সেগুলো থেকে বেঁচে থাকাই এর সরাসরি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা একটি বড় কবীরা গুনাহ।
- বাবা-মায়ের অবাধ্যতা গুরুতর পাপ।
- নরহত্যা ও মিথ্যা কথা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
- সত্যবাদিতা এবং মানুষের জীবন ও অধিকারের প্রতি সম্মান রাখা জরুরি।
