৪৪/৫. অধ্যায়ঃ
সূরা আন-নিসা
সন্তানদের উত্তরাধিকার: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার সমান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০১৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০১৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ مَرِضْتُ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي وَقَدْ أُغْمِيَ عَلَىَّ فَلَمَّا أَفَقْتُ قُلْتُ كَيْفَ أَقْضِي فِي مَالِي فَسَكَتَ عَنِّي حَتَّى نَزَلَتْ : ( يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ ) قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ .
মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন। আমি অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম। আমার চেতনা ফিরে পাওয়ার পর আমি বললাম, আমি আমার ধন-সম্পদ প্রসঙ্গে কিভাবে সিদ্ধান্ত করব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার বিষয়ে নীরব থাকলেন। তারপর আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) : “আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ এক পুরুষের (পুত্রের) অংশ দুইজন নারীর (কন্যার) সমান” – (সূরা আন-নিসা ১১)।
সহীহ : সহীহ আবূ দাঊদ (২৭২৮), বুখারী (৪৫৭৭), মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির হতে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আল –ফাযল ইবনুস সাব্বাহ আল –বাগদাদী-সুফইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল –ফাযল ইবনুস সাব্বাহর হাদীসে এ হাদীসের চেয়ে আরো বেশী বর্ণনা আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০১৫-এর সারসংক্ষেপ
জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে দেখতে যান। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর জাবির (রাঃ) জানতে চান, নিজের ধন-সম্পদের বিষয়ে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখন কোনো উত্তর দেননি। পরে সূরা আন-নিসা ১১ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। আয়াতে সন্তানদের উত্তরাধিকারের বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ জানানো হয় এবং বলা হয়, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। হাদিসটি উত্তরাধিকার বণ্টনের একটি বিধান নাজিল হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পদের ভাগ ব্যক্তিগত অনুমান বা ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। প্রশ্নের উত্তরে ওহির নির্দেশ আসা পর্যন্ত নবীজি (صلى الله عليه وسلم) নীরব ছিলেন। ফলে মীরাসের বিষয়ে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান অনুসরণের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানদের উত্তরাধিকার বণ্টনের বিধান আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন।
- এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান বলে আয়াতে নির্দেশ এসেছে।
- ওহির নির্দেশ আসার আগে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজ থেকে সিদ্ধান্ত দেননি।
- মীরাসের সম্পদ ব্যক্তিগত ইচ্ছামতো বণ্টন করা উচিত নয়।
