১/২৩. অধ্যায়ঃ
দাঁড়ি খিলাল করা
দাড়ি খিলাল করার হাদিস: ওজুকে যত্নের সঙ্গে সম্পন্ন করার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ عَمَّارٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ أَبِي أَوْفَى وَأَبِي أَيُّوبَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ مَنْصُورٍ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَمْ يَسْمَعْ عَبْدُ الْكَرِيمِ مِنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ حَدِيثَ التَّخْلِيلِ . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عُثْمَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ بِهَذَا أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ رَأَوْا تَخْلِيلَ اللِّحْيَةِ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ . وَقَالَ أَحْمَدُ إِنْ سَهَا عَنْ تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ فَهُوَ جَائِزٌ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنْ تَرَكَهُ نَاسِيًا أَوْ مُتَأَوِّلاً أَجْزَأَهُ وَإِنْ تَرَكَهُ عَامِدًا أَعَادَ .
‘আম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আম্মার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন... এ সূত্রেও উপরের হাদিসের মতই বর্ণিত হয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্, উম্মি সালাম, আনাস, ইবনু আবী আওফা ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, আমি ইসহাক ইবনু মানসূরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বলতে শুনেছিঃ ইবনু উআইনা বলেছেন, আবদুল কারীম ‘দাড়ি খিলাল করা’ সম্পর্কিত হাদীস হাসসান ইবনু বিলালের নিকট হতে শুনেননি। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেছেন, এ অনুচ্ছেদ ‘আমির ইবনু শাকীক হতে তিনি আবূ ওয়াইল হতে তিনি উসমান হতে বর্ণিত হাদীসটি সবচাইতে সহীহ। সাহাবাই কিরাম ও পরবর্তী পর্যায়ের বেশিভাগ মনীষীর মতে দাড়ি খিলাল করা উচিৎ। ইমামা শাখিঈরও এই মত। ইমাম আহমাদ বলেন, যে ব্যক্তি দাড়ি খিলাল করতে ভুলে গেছে তাতে তার ওযূর কোন লোকসান হয়নি। ইসহাক বলেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দাড়ি খিলাল না করা হয় এবং এই ওযূ দিযে নামায আদায় করে থাকে তাহলে আবার নামায আদায় করতে হবে। আর যদি ভুলবশত অথবা হাদীসের ভিন্ন ব্যাখ্যা করে দাড়ি খিলাল করা ছেড়ে দেয় তবে নামায নতুন করে আদায় করতে হবে না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: দাড়ি খিলাল। এই হাদিসে আম্মার (রাঃ) থেকে আগের হাদিসের মতো একই অর্থের বর্ণনা এসেছে। অর্থাৎ, নবী (صلى الله عليه وسلم) ওজুর সময় দাড়ি খিলাল করতেন। একই বিষয় ভিন্ন সূত্রে আসা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ওজুর অঙ্গগুলো ধোয়ার সময় যত্ন থাকা দরকার। দাড়ি থাকলে শুধু মুখে পানি লাগানো নয়, দাড়ির ফাঁকেও খেয়াল করা ভালো। হাদিসের ভাষা থেকে এতটুকুই নিশ্চিতভাবে নেওয়া যায় যে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে দাড়ি খিলাল করার কাজ ছিল। যারা দাড়ি খিলাল করা সুন্নত কি না, অথবা ওজুতে দাড়ি খিলালের হাদিস জানতে চান, তাদের জন্য এই বর্ণনার শিক্ষা হলো—ওজুর সময় তাড়াহুড়া না করে পরিচ্ছন্নতার অংশগুলো মনোযোগ দিয়ে করা। এতে নবীজির পদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ওজুতে দাড়ি খিলাল করার বর্ণনা এসেছে।
- ওজুর সময় দাড়ির অংশে যত্ন নেওয়া উচিত।
- একই শিক্ষা ভিন্ন সূত্রে আসা বিষয়টির গুরুত্ব বোঝায়।
- ওজুতে মনোযোগ ও অনুসরণ দুটোই দরকার।
