৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-বাক্বারাহ
শয়তানের কুমন্ত্রণা চিনবেন কীভাবে? হাদিসের সহজ শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৮৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৮৮
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ لِلشَّيْطَانِ لَمَّةً بِابْنِ آدَمَ وَلِلْمَلَكِ لَمَّةً فَأَمَّا لَمَّةُ الشَّيْطَانِ فَإِيعَادٌ بِالشَّرِّ وَتَكْذِيبٌ بِالْحَقِّ وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَإِيعَادٌ بِالْخَيْرِ وَتَصْدِيقٌ بِالْحَقِّ فَمَنْ وَجَدَ ذَلِكَ فَلْيَعْلَمْ أَنَّهُ مِنَ اللَّهِ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ وَمَنْ وَجَدَ الأُخْرَى فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ثُمَّ قَرَأ : (الشََّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ ) " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَهُوَ حَدِيثُ أَبِي الأَحْوَصِ لاَ نَعْلَمُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الأَحْوَصِ .
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম সন্তানের প্রতি শাইতানের এক স্পর্শ রয়েছে এবং ফেরেশতারও এক স্পর্শ রয়েছে। শাইতানের স্পর্শ হচ্ছে মন্দ কাজের প্ররোচনাদান ও সত্যকে অস্বীকার করার। ফেরেশতার স্পর্শ হচ্ছে কল্যাণের কাজে উৎসাহিত করা এবং সত্যকে স্বীকার করা।কাজেই যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে এরূপ নেকীর স্পর্শ অনুভব করে সে যেন জ্ঞাত হয় যে, এটা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে এবং এজন্য সে যেন আল্লাহ তা’আলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করে। আর কেউ নিজের মধ্যে এর বিপরীত স্পর্শ উপলব্ধি করলে সে যেন তখন শাইতান হতে আল্লাহ তা’আলার নিকট আশ্রয় চায়।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) : “শাইতান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তাঁর ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ তা’আলা প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ” - (সূরা আল-বাকারা ২৬৮)।
সহীহ : মিশকাত তাহক্বীক্ব সানী (৭৪)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি হচ্ছে আবুল আহওয়াসের রিওয়ায়াত। আমরা আবুল আহওয়াসের সূত্র ব্যতীত এটিকে অন্য কোন সূত্রে মারফূ’ হিসেবে জানতে পারিনি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস মানুষের মনে আসা দুই ধরনের প্রেরণার কথা বলে। শয়তানের স্পর্শ মানুষকে মন্দ কাজের দিকে টানে এবং সত্য অস্বীকার করতে উৎসাহ দেয়। অন্যদিকে ফেরেশতার স্পর্শ ভালো কাজে আগ্রহ তৈরি করে এবং সত্যকে মেনে নিতে সাহায্য করে। তাই নিজের মনে কল্যাণের আহ্বান অনুভব করলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে বলা হয়েছে। আর মন্দ, অশ্লীল বা সত্যবিরোধী প্ররোচনা অনুভব করলে বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সূরা আল-বাকারার ২৬৮ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে শয়তানের দারিদ্র্যের ভয় দেখানো ও মন্দ কাজের নির্দেশের কথা আছে। হাদিসটি আমাদের মনে আসা প্রতিটি চিন্তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে যাচাই করতে শেখায়। যে চিন্তা সত্য ও ভালো কাজের দিকে নেয়, সেটিকে গ্রহণ করা উচিত; আর বিপরীত প্ররোচনা থেকে দ্রুত আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো ও মন্দ প্রেরণার পার্থক্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
- কল্যাণের আগ্রহ এলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
- মন্দ প্ররোচনা এলে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে।
- দারিদ্র্যের ভয় দেখিয়ে ভালো কাজ ঠেকানো শয়তানের কৌশল হতে পারে।
