৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-বাক্বারাহ
নামাজে কথা বলা নিষেধ: নীরবতা ও একাগ্রতার শিক্ষা
জামে তিরমিযী : ২৯৮৬
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৮৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنَّا نَتَكَلَّمُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَنَزَلَتْ : (وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ) فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ .
যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় আমরা নামাজের মধ্যে কথাবার্তা বলতাম। এ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়ঃ “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে অনুগত সেবকের মত দাঁড়াও” (সূরা আল-বাকারা: ২৩৮)। এতদ্বারা আমাদেরকে (নামাজে) চুপ থাকার নির্দেশ দেয়া হল।
সহীহ : সহীহ আবূ দাঊদ (৮৭৫)।আহমাদ ইবনু মানী-হুশাইম হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ) হতে এই সূত্রেও একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আরও আছে : ‘ওয়া নুহীনা আনিল কালাম’ (আমাদেরকে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়া হয়)।সহীহ : সহীহ আবূ দাঊদ (৮৭৫), বুখারী ও মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আমর আশ-শাইবানীর নাম সা’দ ইবনু ইয়াস।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৯৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস নামাজের শৃঙ্খলা কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে তা সহজভাবে জানায়। যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে এক পর্যায়ে সাহাবিরা নামাজের মধ্যে কথাবার্তা বলতেন। পরে সূরা আল-বাকারার ২৩৮ নম্বর আয়াতের অংশ—আল্লাহর উদ্দেশে অনুগতভাবে দাঁড়াও—নাজিল হলে তাঁদের চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাই নামাজে নীরবতা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়; এটি আল্লাহর সামনে একাগ্রভাবে দাঁড়ানোর অংশ। নামাজের সময় সাধারণ কথাবার্তা মনকে ইবাদত থেকে সরিয়ে দেয় এবং নামাজের স্বাভাবিক ধারাও ভেঙে দেয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, তাকবির থেকে সালাম পর্যন্ত মন, মুখ ও শরীরকে নামাজের কাজে নিয়োজিত রাখতে হবে। প্রয়োজনহীন কথা বা বাইরের আলোচনায় না জড়িয়ে কিরাত, দোয়া, রুকু ও সিজদার প্রতি মনোযোগী হওয়াই মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে সাধারণ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- নীরবতা নামাজের একাগ্রতা ও আনুগত্যের অংশ।
- আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় মন ও মুখকে ইবাদতে ব্যস্ত রাখা উচিত।
- আল্লাহর নির্দেশ এলে সাহাবিরা আগের অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছিলেন।
