৪২/১৮. অধ্যায়ঃ
(কুরআন পাঠকারীর অবস্থান)
কিয়ামতে কুরআনের বাহকের মর্যাদার মুকুট
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯১৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯১৫
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ يَا رَبِّ حَلِّهِ فَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ زِدْهُ فَيُلْبَسُ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ ثُمَّ يَقُولُ يَا رَبِّ ارْضَ عَنْهُ فَيَرْضَى عَنْهُ فَيُقَالُ لَهُ اقْرَأْ وَارْقَ وَتُزَادُ بِكُلِّ آيَةٍ حَسَنَةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআন কেয়ামত দিবসে হাজির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু! একে (কুরআনের বাহককে) অলঙ্কার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত পাঠ করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে।
হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২০৭)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জা‘ফার হতে, তিনি শু‘বাহ্ হতে, তিনি আসিম ইবনু বাহদালা হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি এ সূত্রে মারফূরূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ‘ঈসা বলেন, ‘আবদুস সামাদ হতে শু‘বাহ্ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় এটিই আমাদের মতে অনেক বেশী সহীহ। বুনদার ‘আবদুর রাহমান ইবনু মাহ্দী হতে, তিনি সুফ্ইয়ান হতে, তিনি আসিমের সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের দিন কুরআন তার বাহকের জন্য সম্মান কামনা করবে বলে জানানো হয়েছে। কুরআন বলবে, হে আমার রব, তাকে অলঙ্কৃত করুন। এরপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। কুরআন আরও বৃদ্ধির আবেদন করলে তাকে মর্যাদার পোশাক দেওয়া হবে। এরপর তার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি চাওয়া হবে এবং আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, কুরআন পাঠ করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। প্রতিটি আয়াতের সঙ্গে তার একটি করে নেকি বা মর্যাদা বাড়ানো হবে। হাদিসটি কুরআনের বাহকের আখিরাতের সম্মান তুলে ধরে। একই সঙ্গে বোঝায়, কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু দুনিয়ার পাঠে সীমাবদ্ধ নয়; আখিরাতেও তা সম্মান ও উন্নতির কারণ হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিয়ামতের দিন কুরআন তার বাহকের সম্মানের জন্য আবেদন করবে।
- কুরআনের বাহককে মর্যাদার মুকুট ও পোশাক দেওয়ার কথা এসেছে।
- তাকে আয়াত পাঠ করতে করতে উপরের দিকে উঠতে বলা হবে।
- প্রতিটি আয়াতের সঙ্গে নেকি বা মর্যাদা বৃদ্ধির কথা হাদিসে রয়েছে।
