৪২/১১. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-ইখলাসের ফজিলত
সূরা ইখলাসের ফজিলত: এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৯৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৯৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ رَبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ امْرَأَةٍ، وَهِيَ امْرَأَةُ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيَعْجَزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ مَنْ قَرَأَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ فَقَدْ قَرَأَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَأَبِي سَعِيدٍ وَقَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي مَسْعُودٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَلاَ نَعْرِفُ أَحَدًا رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَحْسَنَ مِنْ رِوَايَةِ زَائِدَةَ وَتَابَعَهُ عَلَى رِوَايَتِهِ إِسْرَائِيلُ وَالْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ وَقَدْ رَوَى شُعْبَةُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الثِّقَاتِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَنْصُورٍ وَاضْطَرَبُوا فِيهِ .
আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি কি এক রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন তিলাওয়াত করতে অপারগ? যে লোক আল্লাহু ওয়াহিদুস সামাদ (সূরা আল-ইখলাস) পাঠ করল সে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করল।
সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২২৫), মুসলিম, আবূ দারদা হতে।আবুদ দারদা, আবূ সা‘ঈদ, ক্বাতাদাহ্ ইবনুন নু‘মান, আবূ হুরাইরাহ্, আনাস, ইবনু ‘উমার ও আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি যায়িদার রিওয়ায়াতের চাইতে অধিক উত্তমভাবে আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইসরাঈল ও ফুযাইল ইবনু ‘ইয়ায এটির সমার্থক রিওয়ায়াত করেছেন। শু‘বাহ্ প্রমুখ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ মানসূরের সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু এতে তারা গড়মিল করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রশ্ন করেছেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অপারগ? এরপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু ওয়াহিদুস সামাদ’, অর্থাৎ সূরা আল-ইখলাস পাঠ করেছে, সে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করেছে। হাদিসটির মূল বিষয় সূরা ইখলাসের বিশেষ মর্যাদা এবং এক-তৃতীয়াংশ কুরআনের সঙ্গে তার তুলনা। এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে, এই তুলনাকে পুরো কুরআনের সব বিষয়, বিধান ও তিলাওয়াতের প্রয়োজনের বিকল্প বলা হয়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট ফজিলত প্রকাশ করা হয়েছে। তাই সূরা ইখলাস নিয়মিত ও মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত, পাশাপাশি পুরো কুরআনের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখা দরকার। হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত। তাই ব্যাখ্যাতেও নতুন সংখ্যা, নতুন সময় বা বাড়তি ফল যোগ না করে মূল কথাই সামনে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। সূরাটির অর্থ জানা তাওহীদের বার্তাকে বুঝে পড়তে সাহায্য করতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা ইখলাসকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়েছে।
- হাদিসে এক রাতে এ সূরা পাঠের উৎসাহ আছে।
- এই ফজিলত পুরো কুরআন পড়ার সব উদ্দেশ্যের বিকল্প নয়।
- সূরা ইখলাসের পাশাপাশি পুরো কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দরকার।
