৪২/২. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-বাক্বারাহ ও আয়াতুল কুরসীর ফযিলত
কুরআন শিক্ষা ও নেতৃত্ব: সূরা আল-বাকারা জানা তরুণের ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৭৬
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، مَوْلَى أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا وَهُمْ ذُو عَدَدٍ فَاسْتَقْرَأَهُمْ فَاسْتَقْرَأَ كُلَّ رَجُلٍ مِنْهُمْ مَا مَعَهُ مِنَ الْقُرْآنِ فَأَتَى عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ مِنْ أَحْدَثِهِمْ سِنًّا فَقَالَ " مَا مَعَكَ يَا فُلاَنُ " . قَالَ مَعِي كَذَا وَكَذَا وَسُورَةُ الْبَقَرَةِ . قَالَ " أَمَعَكَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ " . فَقَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَاذْهَبْ فَأَنْتَ أَمِيرُهُمْ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مَنَعَنِي أَنْ أَتَعَلَّمَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ إِلاَّ خَشْيَةَ أَلاَّ أَقُومَ بِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ فَاقْرَءُوهُ وَأَقْرِئُوهُ فَإِنَّ مَثَلَ الْقُرْآنِ لِمَنْ تَعَلَّمَهُ فَقَرَأَهُ وَقَامَ بِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ مَحْشُوٍّ مِسْكًا يَفُوحُ بِرِيحِهِ كُلُّ مَكَانٍ وَمَثَلُ مَنْ تَعَلَّمَهُ فَيَرْقُدُ وَهُوَ فِي جَوْفِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ وُكِئَ عَلَى مِسْكٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এক অভিযানে) একটি ক্ষুদ্র বাহিনী পাঠান। তারা সংখ্যায় খুব অধিক ছিল না। তিনি তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করতে বলেন। সুতরাং প্রত্যেকেই যার যা মুখস্ত ছিল তা তিলাওয়াত করে শুনায়। অবশেষে তিনি এদের মধ্যে সবচাইতে কম বয়সী এক ব্যক্তির নিকটে আসলেন। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন: হে অমুক! তোমার নিকটে কি আছে? সে বলল, আমার এই সূরা ও সূরা আল-বাকারা মুখস্ত আছে। তিনি আবার প্রশ্ন করেন: তোমার সূরা আল-বাকারা মুখস্ত আছে? সে বলল হ্যাঁ। তিনি বললেন: যাও তুমিই এ বাহিনীর দলপতি। দলের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আল্লাহর শপথ! আমি সূরা আল-বাকারা এই ভয়ে হিফয করিনি যে, আমি এটা নিয়ে (রাতের সালাতে) দাঁড়াতে পারব না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তা তিলাওয়াত কর। কেননা যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করতে শিখে, তা পাঠ করে এবং এটা নিয়ে সালাতে দাঁড়ায় তার জন্য কুরআনের নমুনা হল কস্তূরী ভর্তি চামড়ার থলের মত যার খুশবু সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে। আর যে ব্যক্তি তা শিখে ঘুমিয়ে আছে তার উদাহরণ হল মুখবন্ধ কস্তূরীর থলের মত।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (২১৭)আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। লাইস ইবনু সা'দ-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে তিনি আবূ আহমাদের মুক্তদাস আতা (রাঃ) হতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে মুরসাল হিসেবেও উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত আছে। এই সূত্রে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৭৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কুরআন শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একটি ছোট বাহিনীর সদস্যদের কাছে কতটুকু কুরআন মুখস্থ আছে তা শুনতে চান। সবার পাঠ শোনার পর তিনি সবচেয়ে কম বয়সী একজনের কাছে জানতে পারেন, তার কয়েকটি সূরার সঙ্গে সূরা আল-বাকারাও মুখস্থ। তিনি তাকেই দলের নেতা করেন। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি জানান, রাতে তা নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন না—এই ভয়েই তিনি সূরাটি শেখেননি। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুরআন শিখতে, পড়তে ও অন্যকে পড়াতে বলেন। যে কুরআন শেখে, তিলাওয়াত করে এবং তা নিয়ে সালাতে দাঁড়ায়, তাকে খোলা কস্তুরীভর্তি থলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আর যে শিখে রেখে ঘুমিয়ে থাকে, সে বাঁধা কস্তুরীর থলের মতো। এই কুরআন শিক্ষার হাদিস জানায়, মুখস্থ জ্ঞানকে পাঠ ও আমলে সক্রিয় করা দরকার। ঘটনাটি আরও দেখায়, বয়স কম হলেও কুরআনের যোগ্যতা নেতৃত্বের বিবেচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শেখা, তিলাওয়াত করা এবং অন্যকে শেখানোর নির্দেশ রয়েছে।
- মুখস্থ কুরআন সালাত ও পাঠে কাজে লাগালে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
- যোগ্যতা থাকলে কম বয়সী ব্যক্তিকেও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
- জ্ঞান শুধু সংরক্ষণ নয়, ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
