৪১/৭০. অধ্যায়ঃ
কবিতা আবৃত্তি প্রসঙ্গে
রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর পক্ষে কবিতায় জবাব এবং হাসসান রাঃ-এর প্রতি সহায়তা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৪৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৪৬
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ لِحَسَّانَ مِنْبَرًا فِي الْمَسْجِدِ يَقُومُ عَلَيْهِ قَائِمًا يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - أَوْ قَالَ يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - وَيَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ حَسَّانَ بِرُوحِ الْقُدُسِ مَا يُفَاخِرُ أَوْ يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " .
আয়িশাহ্ (রা:) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) (কবি) হাসান-এর জন্য মসজিদে একটা মিম্বার রেখে দিতেন। তিনি তাতে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর গৌরবগাঁথা আবৃত্তি করতেন অথবা তিনি (আয়িশা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে (কাফিরদের কটূক্তির) জবাব দিতেন। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন: আল্লাহ তা‘আলা রুহুল কুদুস জিবরীল-এর মাধ্যমে হাসানকে সহযোগিতা করেন যতক্ষণ তিনি গৌরবগাঁথা আবৃত্তি করেন অথবা রাসুলের পক্ষ থেকে (কাফিরদের তিরস্কারের) জবাব দেন।
হাসান : সহীহাহ্ (১৬৫৭)ইসমাঈল ইবনু মুসা ও ‘আলী ইবনু হুজুর তারা উভয়ে ইবনু আবী যিনাদ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি ‘আয়িশাহ্ (রা:) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন । আবূ হুরাইরাহ্ ও আল-বারাআ (রা:) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব । এটি ইবনু আবুয যিনাদের হাদীস ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কবি হাসসান রাঃ-এর একটি বিশেষ কাজের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার রাখতেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর মর্যাদা তুলে ধরতেন অথবা বিরোধীদের কটূক্তির জবাব দিতেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যতক্ষণ হাসসান রাঃ তাঁর পক্ষে গৌরবের কথা বলেন বা জবাব দেন, আল্লাহ তাঁকে রুহুল কুদুস জিবরীল আঃ-এর মাধ্যমে সহযোগিতা করেন। হাদিসটির মূল বিষয় শুধু কবিতা নয়; সত্যের পক্ষে কথা বলা এবং রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সম্মান রক্ষা করাও এতে উঠে এসেছে। তবে এখানে যে সহায়তার কথা বলা হয়েছে, তা হাসসান রাঃ-এর নির্দিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাই হাদিসের বাইরে গিয়ে সব ধরনের কবিতা বা বিতর্ক সম্পর্কে একই দাবি করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাসসান রাঃ কবিতার মাধ্যমে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর পক্ষে বিরোধীদের জবাব দিতেন।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মসজিদে তাঁর কবিতা বলার জন্য মিম্বার রাখতেন।
- সত্যের পক্ষে ব্যবহৃত কথা ও কবিতা মর্যাদাপূর্ণ কাজ হতে পারে।
- হাদিসে হাসসান রাঃ-এর নির্দিষ্ট দায়িত্বের সঙ্গে আল্লাহর সহায়তার কথা এসেছে।
