৪১/৪৩. অধ্যায়ঃ
গোসলখানায় প্রবেশ করা
গোসলখানার আদব ও মদের আসর থেকে দূরে থাকার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮০১
حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ دِينَارٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يَدْخُلِ الْحَمَّامَ بِغَيْرِ إِزَارٍ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يُدْخِلْ حَلِيلَتَهُ الْحَمَّامَ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يَجْلِسْ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا بِالْخَمْرِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ طَاوُسٍ عَنْ جَابِرٍ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ صَدُوقٌ وَرُبَّمَا يَهِمُ فِي الشَّىْءِ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لَيْثٌ لاَ يُفْرَحُ بِحَدِيثِهِ كَانَ لَيْثٌ يَرْفَعُ أَشْيَاءَ لاَ يَرْفَعُهَا غَيْرُهُ فَلِذَلِكَ ضَعَّفُوهُ .
জাবির (রা:) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ও পরকালের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে সে যেন ইযার (লুঙ্গি) পরিহিত অবস্থা ছাড়া গোসলখানায় প্রবেশ না করে। আল্লাহ ও পরকালের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে সে যেন তার স্ত্রীকে গোসলখানায় প্রবেশ না করায়। আল্লাহ ও পরকালের প্রতি যে লোক ঈমান রাখে সে যেন এমন দস্তরখানে (খাদ্যের মজলিসে) না বসে যেখানে মদ পরিবেশন করা হয়।
হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (১/৮৮-৮৯), ইরওয়াহ্(১৯৪৯), গাইয়াতুল মারাম (১৯০)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই তাউস হতে জাবির (রা:)-এর বর্ণনা হিসেবে জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল(বুখারী)(রহ:) বলেন, লাইস ইবনু আবূ সুলাইম বর্ণনাকারী হিসেবে সত্যবাদী, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সন্দেহের শিকার হন। তিনি আরো বলেন, আহ্মাদ ইবনু হাম্বল(রহ:) বলেছেন যে, লাইসের বর্ণনায় উৎফুল্ল হওয়া যায় না। কেননা লাইস এমন কিছু বিষয় মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন যা অন্যরা মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন না। এই জন্যই তাকে যঈফ বলা হয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঈমানের দাবির সঙ্গে দৈনন্দিন আচরণের তিনটি বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, কোনো পুরুষ গোসলখানায় গেলে ইযার বা লুঙ্গি পরে শরীরের গোপন অংশ ঢেকে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ গোসলখানার আদবের মূল কথা হলো শালীনতা ও সতর রক্ষা। দ্বিতীয়ত, স্ত্রীকে এমন গোসলখানায় প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, যে খাবারের আসরে মদ পরিবেশন করা হয়, সেখানে বসতে নিষেধ করা হয়েছে। এখানে শুধু মদ পান না করার কথা নয়; মদ ঘুরছে এমন দস্তরখানায় বসাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান মানুষের পোশাক, পারিবারিক সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক মজলিস বাছাইয়েও প্রকাশ পাওয়া উচিত। এ তিনটি নির্দেশই ঈমানদারের ব্যবহারিক সতর্কতার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোসলখানায় প্রবেশের সময় ইযার বা লুঙ্গি পরে সতর ঢেকে রাখা উচিত।
- পরিবারের সদস্যকে শালীনতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাযুক্ত গোসলখানায় পাঠানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- যে খাদ্যের আসরে মদ পরিবেশন হয়, সেই আসরে বসা এড়িয়ে চলতে হবে।
