৪১/৩৪. অধ্যায়ঃ
পুরুষদের বেশধারিণী নারীগণ
বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ কেন নিষেধ—হাদিসের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৭৮৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৭৮৫
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، وَأَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلاَتِ مِنَ النِّسَاءِ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ .
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নারীর বেশধারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশধারী নারীদেরকে লা’নত করেছেন।
সহীহ :দেখুন পূর্বের হাদীস ,বুখারি ও মুসলিম।আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭৮৫-এর সারসংক্ষেপ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নারী ও পুরুষের নিজ নিজ স্বাভাবিক বেশ বজায় রাখা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষ এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীকে লানত করেছেন। বক্তব্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও এর সতর্কতা স্পষ্ট। একজন মুসলিমের পোশাক, সাজসজ্জা ও প্রকাশ্য বেশ এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের বেশ গ্রহণ করে। হাদিসটি মানুষের ব্যক্তিগত অবস্থা নিয়ে অনুমান করা বা কাউকে তুচ্ছ করার অনুমতি দেয় না। বরং এটি নিজের কাজ, পোশাক ও উপস্থাপনা যাচাই করার শিক্ষা দেয়। কোনো ফ্যাশন বা সামাজিক প্রবণতা গ্রহণ করার আগে দেখতে হবে, তা হাদিসে নিষিদ্ধ অনুকরণের মধ্যে পড়ে কি না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদের বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের বিষয়েও একই সতর্কতা এসেছে।
- ফ্যাশন অনুসরণের আগে ইসলামের নির্দেশ বিবেচনা করা দরকার।
- হাদিসটি অন্যকে হেয় করার বদলে নিজের বেশভূষা সংশোধনের শিক্ষা দেয়।
