৪১/২২. অধ্যায়ঃ
লজ্জাস্থানের হিফাযত করা
লজ্জাস্থান হিফাজতের হাদিস: প্রকাশ্যে ও নির্জনে শালীনতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৭৬৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৭৬৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَوْرَاتُنَا مَا نَأْتِي مِنْهَا وَمَا نَذَرُ قَالَ " احْفَظْ عَوْرَتَكَ إِلاَّ مِنْ زَوْجَتِكَ أَوْ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُكَ " . فَقَالَ الرَّجُلُ يَكُونُ مَعَ الرَّجُلِ قَالَ " إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ لاَ يَرَاهَا أَحَدٌ فَافْعَلْ " . قُلْتُ وَالرَّجُلُ يَكُونُ خَالِيًا . قَالَ " فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَجَدُّ بَهْزٍ اسْمُهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ حَيْدَةَ الْقُشَيْرِيُّ وَقَدْ رَوَى الْجُرَيْرِيُّ عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ وَهُوَ وَالِدُ بَهْزٍ .
বাহ্য ইবনু হাকীম (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর বাবা ও তাঁর দাদার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের লজ্জাস্থান কতটুকু ঢেকে রাখব এবং কতটুকু খোলা রাখতে পারব? তিনি বললেন: তোমার স্ত্রী ও দাসী ছাড়া সকলের দৃষ্টি হতে তোমার লজ্জাস্থান হিফাজত করবে। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, পুরুষেরা একত্রে অবস্থানরত থাকলে? তিনি বললেন: যতদূর সম্ভব কেউ যেন আচ্ছাদনীয় স্থান দেখতে না পারে তুমি তাই কর। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, মানুষ তো কখনো নির্জন অবস্থায়ও থাকে। তিনি বললেন: আল্লাহ তো লজ্জার ক্ষেত্রে বেশি হকদার।
হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৯২০)আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। বাহ্যের দাদার নাম মুআবিয়াহ ইবনু হাইদাহ্ আল-কুশাইরী। আল-জুরাইরী হাকীম ইবনু মুআবিয়ার সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন বাহ্যের বাবা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা ও ব্যক্তিগত শালীনতার বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, স্ত্রী ও অধীনস্থ দাসী ছাড়া অন্যদের দৃষ্টি থেকে লজ্জাস্থান রক্ষা করতে হবে। পুরুষেরা একসঙ্গে থাকলেও যতদূর সম্ভব কেউ যেন আচ্ছাদনীয় স্থান দেখতে না পায়, সে ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এরপর নির্জন অবস্থার কথা উঠলে তিনি বলেন, আল্লাহ লজ্জা করার আরও বেশি হকদার। তাই লজ্জাস্থান হিফাজত, সতর ঢাকার নিয়ম ও নির্জনে শালীনতা—এই হাদিসের প্রধান বিষয়। পাঠ্যে একটি ঐতিহাসিক সামাজিক শ্রেণির উল্লেখ আছে; এখানে তার বাইরে নতুন বিধান যোগ করা হচ্ছে না। বাস্তব শিক্ষা হলো, অন্যের সামনে শরীরের গোপন অংশ ঢেকে রাখা, দলবদ্ধ অবস্থায়ও গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং একা থাকলেও আল্লাহর উপস্থিতি মনে রেখে শালীন আচরণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রী ও পাঠ্যে উল্লেখিত ব্যতিক্রম ছাড়া অন্যদের থেকে লজ্জাস্থান ঢাকতে বলা হয়েছে।
- একসঙ্গে অবস্থান করলেও যতদূর সম্ভব আচ্ছাদন রক্ষা করতে হবে।
- নির্জন অবস্থাতেও আল্লাহর প্রতি লজ্জাবোধ রাখার শিক্ষা রয়েছে।
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শালীনতা রক্ষায় সচেতন হওয়া দরকার।
