৪০/২৮. অধ্যায়ঃ

প্রথমেই “আলাইকাস্ সালাম” বলা নিষেধ

সালাম দেওয়ার সঠিক নিয়ম: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৭২১

حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ قَوْمِهِ قَالَ طَلَبْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ أَقْدِرْ عَلَيْهِ فَجَلَسْتُ فَإِذَا نَفَرٌ هُوَ فِيهِمْ وَلاَ أَعْرِفُهُ وَهُوَ يُصْلِحُ بَيْنَهُمْ فَلَمَّا فَرَغَ قَامَ مَعَهُ بَعْضُهُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ قُلْتُ عَلَيْكَ السَّلاَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيْكَ السَّلاَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيْكَ السَّلاَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ الْمَيِّتِ إِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ الْمَيِّتِ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثًا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَىَّ فَقَالَ ‏"‏ إِذَا لَقِيَ الرَّجُلُ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ فَلْيَقُلِ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ رَدَّ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو غِفَارٍ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي جُرَىٍّ، جَابِرِ بْنِ سُلَيْمٍ الْهُجَيْمِيِّ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ ‏.‏ وَأَبُو تَمِيمَةَ اسْمُهُ طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ ‏.

আবূ তামীমা আল-হুজাইমী (রা:) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ)-কে খোঁজ করে না পেয়ে বসে রইলাম। এরই মধ্যে আমি তাঁকে একদল লোকের মাঝে দেখতে পেলাম, কিন্তু আমি তাঁকে চিনতাম না। তাদের মাঝে তিনি মীমাংসা করেছিলেন। কাজ শেষে কয়েকজন তাঁর সাথে উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইহা দেখে তাঁকে বললাম, আলাইকাশ সালামু ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন: “আলাইকাশ সালামু” হল মৃত ব্যক্তির জন্য সালাম। এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন। তারপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের সময় যেন বলে, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ”। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সালামের উত্তর দিলেন: ওয়া আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ওয়া আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ওয়া আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

সহীহঃ সহীহাহ্ (১৪০৩)আবূ ঈসা বলেন, এই হাদিসটি আবূ তামীমাহ্ আল-হুজাইমী-আবূ জুরায়্যি জাবির ইবনু সুলাইম আল-হুজাইমীর সূত্রে আবূ গিফার বর্ণনা করেছেন। আবূ জুরায়্যি (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এলাম... তিনি পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ তামীমার নাম তারীফ ইবনু মুজালিদ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৭২১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মুসলিমদের সালাম দেওয়ার সঠিক নিয়ম শেখানো হয়েছে। একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে ‘আলাইকাশ সালাম’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি বুঝিয়ে দেন, এভাবে নয়; কোনো মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে বলতে হবে, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। অর্থাৎ সালাম শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট ও সুন্দর একটি বাক্য রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভুলটি শুধু ধরিয়ে দেননি, বরং তিনবার বুঝিয়ে সঠিক সালামের পদ্ধতিও শিখিয়েছেন। পরে তিনি সেই ব্যক্তির সালামের উত্তর দিয়েছেন, ‘ওয়া আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। হাদিসটির আরেকটি অংশে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের মধ্যে মীমাংসা করছিলেন। তাই এই বর্ণনায় সঠিক সালাম, সালামের উত্তর এবং মানুষের বিরোধ মেটানোর সুন্দর আচরণ—এই তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলা উচিত।
  • ভুলভাবে সালাম দিলে তা সুন্দরভাবে সংশোধন করে সঠিক বাক্য শেখানো যায়।
  • কেউ সালাম দিলে তার সালামের উপযুক্ত উত্তর দেওয়া উচিত।
  • মানুষের বিরোধ মীমাংসা করা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণের একটি অংশ ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন