৩৯/১৯. অধ্যায়ঃ
জ্ঞানের মর্যাদা ‘ইবাদতের চাইতেও বেশি
কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা ও আলিমের মর্যাদা
জামে তিরমিযী : ২৬৮৫
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৮৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ رَجَاءٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالآخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمَّارٍ الْحُسَيْنَ بْنَ حُرَيْثٍ الْخُزَاعِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ يَقُولُ عَالِمٌ عَامِلٌ مُعَلِّمٌ يُدْعَى كَبِيرًا فِي مَلَكُوتِ السَّمَوَاتِ .
আবূ উমামাহ্ আল-বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
দুইজন লোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আলোচনা করা হল। তাদের একজন আবিদ (সাধক) এবং অন্যজন আলিম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন আলিমের মর্যাদা একজন আবিদের উপর। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান-জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়।
সহীহঃ মিশকাত, তাহক্বীক্ব সানী (২১৩), তা’লীকুর রাগীব (১/৬০)।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ । আমি আবূ ‘আম্মার আল-হুসাইন ইবনু হুরাইসকে বলতে শুনেছি, আমি ফুযাইল ইবনু ‘ইয়াযকে বলতে শুনেছি, কর্মতৎপর একজন জ্ঞানবান শিক্ষককে ঊর্ধ্বজগতে মহান বলে আখ্যায়িত করা হয় ।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৬৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন আবিদ ও একজন আলিমের মর্যাদার তুলনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সাধারণ মানুষের ওপর তাঁর মর্যাদা যেমন, একজন আবিদের ওপর আলিমের মর্যাদাও তেমন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, সঠিক জ্ঞান শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা অন্যদেরও উপকার করে। এরপর মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শেখানো ব্যক্তির জন্য বিশেষ দোয়ার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা, আসমান-জমিনের অধিবাসী, এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও পানির মাছও তার জন্য দোয়া করে। হাদিসের কেন্দ্রীয় শব্দ হলো কল্যাণকর জ্ঞান। অর্থাৎ এমন শিক্ষা, যা মানুষকে ভালো পথে সাহায্য করে। তাই আলিমের মর্যাদা জ্ঞান ধারণের সঙ্গে সঙ্গে তা উপকারীভাবে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গেও যুক্ত। শেখা, আমল করা এবং অন্যকে ভালো শিক্ষা দেওয়া—এই কাজগুলো এখানে সম্মানিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কল্যাণকর জ্ঞান অন্য মানুষের উপকারে আসে বলে আলিমের মর্যাদা বড়।
- মানুষকে ভালো শিক্ষা দেওয়া দোয়া ও রহমত লাভের কারণ হতে পারে।
- ইলম নিজের মধ্যে আটকে না রেখে উপকারীভাবে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ।
- আলিমের সম্মান জ্ঞান, আমল ও শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
