৩৮/৯. অধ্যায়ঃ
নামাজ ত্যাগের পরিণতি
সাহাবীদের মতে নামাজ ত্যাগ: সালাতের অনন্য গুরুত্ব
জামে তিরমিযী : ২৬২২
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬২২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لاَ يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ أَبَا مُصْعَبٍ الْمَدَنِيَّ يَقُولُ مَنْ قَالَ الإِيمَانُ قَوْلٌ يُسْتَتَابُ فَإِنْ تَابَ وَإِلاَّ ضُرِبَتْ عُنُقُهُ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব আল-উক্বাইলী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কোন সাহাবী নামাজ ব্যতীত অন্য কোন আমল ছেড়ে দেয়াকে কুফরি কাজ মনে করতেন না।
সহীহঃ সহীহুত্ তারগীব (১/২২৭-৫৬৪)আবূ ‘ঈসা বলেন, আমি আবূ মুসআব আল-মাদানীকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বলে যে, “শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকৃতির নামই ঈমান” তাকে ত্বাওবাহ করতে বলা হবে, ত্বাওবাহ না করলে তাকে হত্যা করতে হবে ।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৬২২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনার মূল বিষয় নামাজ ত্যাগের ভয়াবহতা। আবদুল্লাহ ইবনু শাকীকের বক্তব্য অনুযায়ী, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহাবীরা নামাজ ছাড়া অন্য কোনো আমল ছেড়ে দেওয়াকে কুফরী কাজ মনে করতেন না। এতে বোঝা যায়, তাঁদের কাছে সালাতের অবস্থান ছিল অন্য সব কাজের তুলনায় আলাদা ও অত্যন্ত গুরুতর। এই কথা নামাজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এসেছে, কাউকে সহজে ধর্মের বাইরে ঘোষণা করার জন্য নয়। একজন মুসলিমের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা হলো—নামাজকে জীবনের অতিরিক্ত কাজ হিসেবে নয়, প্রধান দায়িত্ব হিসেবে রাখা। কোনো নামাজ ছুটে গেলে বিষয়টি হালকা না দেখে অনুতপ্ত হওয়া, দ্রুত ফিরে আসা এবং নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করা দরকার। নামাজ ত্যাগ সম্পর্কে হাদিস খুঁজতে গিয়ে এই বর্ণনা বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয় যে, সাহাবীদের ঈমানি জীবনে সালাত ছিল কেন্দ্রীয় আমল। তাই দৈনন্দিন সময়সূচি নামাজের চারপাশে সাজানোই নিরাপদ পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা নামাজ ত্যাগকে অন্য আমল ত্যাগের মতো সাধারণভাবে দেখতেন না।
- সালাতকে জীবনের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে রাখা উচিত।
- নামাজ ছুটে গেলে অবহেলা না করে দ্রুত ফিরে আসা দরকার।
- এই বর্ণনা আত্মসংশোধনের সতর্কতা, তাড়াহুড়া করে অন্যকে বিচার করার উপায় নয়।
