৩৮/৯. অধ্যায়ঃ
নামাজ ত্যাগের পরিণতি
নামাজ ছেড়ে দিলে কী হয়: ঈমান রক্ষায় সালাতের গুরুত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬২১
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মধ্যে (মুক্তির) যে প্রতিশ্রুতি আছে তা হল নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয়, সে কুফরী কাজ করে।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১০৭৯)আনাস ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীস টি হাসান সহীহ গারীব ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নামাজ। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নামাজকে মুসলিমদের সঙ্গে অবিশ্বাসীদের পার্থক্যকারী একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাই নামাজ ত্যাগ করা সাধারণ অবহেলা নয়; হাদিসে একে কুফরী কাজ বলে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, একজন মুসলিমের জীবনে সালাত শুধু দৈনিক অভ্যাস নয়, বরং ঈমানের প্রকাশ ও আল্লাহর আনুগত্যের বড় নিদর্শন। কাজের চাপ, ঘুম, ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে নামাজকে বারবার পিছিয়ে দেওয়া এই সতর্কবাণীর গুরুত্বকে হালকা করে দেখা। হাদিসটি কাউকে তাড়াহুড়া করে কাফির বলার অনুমতি দেয় না; বরং নিজের নামাজের অবস্থা যাচাই করতে বলে। নামাজ ছেড়ে দিলে কী হয়—এই প্রশ্নের জবাবে হাদিসটি আমাদের ভয়, দায়িত্ববোধ এবং দ্রুত সংশোধনের দিকে ফিরিয়ে আনে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রক্ষা করাই এই বাণীর সরাসরি দাবি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজ মুসলিম পরিচয় ও ঈমানের একটি বড় প্রকাশ।
- ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- অন্যকে বিচার করার আগে নিজের সালাত ঠিক করা জরুরি।
- ব্যস্ততা বা অলসতাকে নামাজ ত্যাগের স্বাভাবিক অজুহাত বানানো ঠিক নয়।
