৩৮/৯. অধ্যায়ঃ
নামাজ ত্যাগের পরিণতি
বান্দা ও কুফরের মধ্যকার পার্থক্য কেন নামাজ ত্যাগ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬২০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬২০
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو الزُّبَيْرِ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ تَدْرُسَ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ ত্যাগ করা।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হদীসটি হাসান সহীহ । আবুয যুবাইরের নাম মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু তাদরুস । তিনি তাদলীস করেন বলে প্রসিদ্ধ ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬২০-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এই হাদিসে বলেছেন, বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা। অল্প কয়েকটি শব্দের এই বাণী সালাতের গুরুত্ব খুব শক্তভাবে প্রকাশ করে। নামাজ শুধু দৈনিক অভ্যাস নয়; এটি আল্লাহর ইবাদত, আনুগত্য ও মুসলিম পরিচয়ের প্রধান নিদর্শন। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দেওয়া মানুষকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। হাদিসটি শুনে অন্য মানুষের ওপর চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে নিজের নামাজের অবস্থা দেখা বেশি জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট নামাজত্যাগী ব্যক্তির ওপর কুফরের বিধান প্রয়োগে তার বিশ্বাস, অস্বীকার, কারণ ও পরিস্থিতি বিচার করতে হয়। ইসলামী স্কলারদের মতে, এটি সাধারণ মানুষের তাড়াহুড়া করে কাউকে কাফির বলার বিষয় নয়। মূল শিক্ষা হলো নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, অবহেলা হলে ফিরে আসা এবং সালাতকে জীবনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজ মুসলিম পরিচয় ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রধান নিদর্শন।
- ইচ্ছাকৃত সালাত ত্যাগ ঈমানের জন্য বড় ঝুঁকির বিষয়।
- হাদিসটি প্রথমে নিজের নামাজ ও দায়িত্ব যাচাই করতে শেখায়।
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর চূড়ান্ত কুফরের রায় দেওয়া সাধারণ মানুষের কাজ নয়।
