৩৮/২. অধ্যায়ঃ
আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং নামায আদায় করবে
মুসলিম পরিচয়ের নিদর্শন ও জান-মালের নিরাপত্তা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬০৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬০৮
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنْ يَسْتَقْبِلُوا قِبْلَتَنَا وَيَأْكُلُوا ذَبِيحَتَنَا وَأَنْ يُصَلُّوا صَلاَتَنَا فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حُرِّمَتْ عَلَيْنَا دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا لَهُمْ مَا لِلْمُسْلِمِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُسْلِمِينَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ نَحْوَ هَذَا .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামাজ আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে।
সহীহঃ সহীহাহ্ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাঊদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ।মু‘আয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব । ইয়াহ্ইয়া (রহঃ),হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিম সমাজের প্রকাশ্য পরিচয়ের কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর একত্ব ও মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া, মুসলিমদের কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়া, তাদের মতো নামাজ আদায় করা এবং তাদের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া—এসব প্রকাশ্য পরিচয় গ্রহণ করলে ব্যক্তির জান ও সম্পদে হস্তক্ষেপ করা হারাম হয়ে যায়। তবে ন্যায়সঙ্গত ইসলামী অধিকার বা প্রমাণিত অপরাধের বিচার আলাদা। হাদিসটি আরও বলে, সেই ব্যক্তি মুসলিমদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং মুসলিমদের ওপর থাকা দায়িত্বও তার ওপর থাকবে। অর্থাৎ মুসলিম সমাজে অধিকার ও দায়িত্ব একসঙ্গে চলে। ইসলামী স্কলারদের মতে, যুদ্ধ ও শাস্তির অংশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয় নয়; বৈধ কর্তৃপক্ষ, বিচার ও নিয়মের অধীন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে বিশ্বাস ও প্রকাশ্য ইবাদতের সম্পর্ক রয়েছে।
- মুসলিমের জান ও সম্পদে অন্যায় হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ।
- সমাজে সমান সুযোগের পাশাপাশি সমান দায়িত্বও গ্রহণ করতে হয়।
- আইন প্রয়োগ ব্যক্তিগত রাগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে করা যায় না।
