৩৬/২৫. অধ্যায়ঃ
জান্নাতের ঝর্ণাসমূহের বর্ণনা
মুয়াজ্জিনের ফজিলত ও তিন শ্রেণির মানুষের কিয়ামতের সম্মান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৫৬৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫৬৬
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثَةٌ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ - أُرَاهُ قَالَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَغْبِطُهُمُ الأَوَّلُونَ وَالآخِرُونَ رَجُلٌ يُنَادِي بِالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ وَرَجُلٌ يَؤُمُّ قَوْمًا وَهُمْ بِهِ رَاضُونَ وَعَبْدٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ . وَأَبُو الْيَقْظَانِ اسْمُهُ عُثْمَانُ بْنُ عُمَيْرٍ وَيُقَالُ ابْنُ قَيْسٍ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন প্রকার লোক কেয়ামতের দিন কস্তুরীর স্তূপের উপর আসন গ্রহণ করবে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ তাদের এ মর্যাদায় ঈর্ষা করবে। ১) যে ব্যক্তি দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেয়; ২) যে ব্যক্তি কোন জাতির নেতৃত্ব করে আর তারা তার উপর সন্তুষ্ট থাকে এবং ৩) যে গোলাম আল্লাহ এবং তার মনিবের হক আদায় করে।
যঈফ; মিশকাত-নং-৬৬৬, নাকদুত্ তাজ-নং-১৮৪; তা’লীকুর রাগীব-নং-১/১১০আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদিসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে এ হাদিস জেনেছি। আবুল ইয়াকযানের নাম ‘উসমান ইবনু ‘উমাইর, মতান্তরে ইবনু ক্বাইস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫৬৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কিয়ামতের মর্যাদা। হাদিসে তিন ধরনের মানুষের বিশেষ সম্মানের কথা এসেছে। প্রথমজন প্রতিদিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেন। দ্বিতীয়জন একটি দলের ইমামতি বা নেতৃত্ব করেন এবং লোকেরা তার ওপর সন্তুষ্ট থাকে। তৃতীয়জন এমন গোলাম, যে আল্লাহর হক এবং তার মনিবের হক—দুটিই আদায় করে। কিয়ামতের দিন তারা কস্তুরীর স্তূপের ওপর আসন নেবে এবং আগের ও পরের মানুষেরা তাদের এই মর্যাদা দেখে ঈর্ষা বা আকাঙ্ক্ষা করবে। এই হাদিস দায়িত্বশীল সেবা, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব এবং নিজের ওপর থাকা একাধিক হক আদায়ের মূল্য শেখায়। শুধু পদ বা পরিচয় নয়, দায়িত্ব ঠিকভাবে পালনই এখানে মূল কথা। মুয়াজ্জিনের নিয়মিত আজান, ইমামের প্রতি মানুষের সন্তুষ্টি এবং গোলামের বিশ্বস্ততা—প্রতিটি কাজের সঙ্গে ধারাবাহিকতা ও দায়িত্ববোধ জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়া সম্মানজনক দায়িত্ব।
- নেতৃত্ব তখনই প্রশংসনীয়, যখন অনুসারীরা নেতার ওপর সন্তুষ্ট থাকে।
- আল্লাহর হক ও মানুষের ন্যায্য হক একসঙ্গে আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ।
