৩৬/১৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর সাক্ষাতে কোন ভিড় হবে না
পূর্ণিমার চাঁদের মতো আল্লাহকে দেখা
জামে তিরমিযী : ২৫৫৪
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫৫৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ نُوحٍ الْحِمَّانِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَتُضَامُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَإِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَهَكَذَا رَوَى يَحْيَى بْنُ عِيسَى الرَّمْلِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَحَدِيثُ ابْنِ إِدْرِيسَ عَنِ الأَعْمَشِ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَحَدِيثُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ وَهَكَذَا رَوَاهُ سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ مِثْلُ هَذَا الْحَدِيثِ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদেরকে প্রশ্ন করেনঃ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে তোমরা কি কোন প্রকার ভিড় অনুভব করো? সূর্য দেখার মধ্যে কি তোমরা কোন রকম ভিড় অনুভব করো? তারা বললেন, না। তিনি বললেনঃ তোমরা যেমনিভাবে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পাও, ঠিক তেমনিভাবে তোমাদের প্রভুকেও দেখতে পাবে। আর এতে কোন ভিড় অনুভব করবে না।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৭৮)। বুখারী, মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। ইয়াহইয়া ইবনু ‘ঈসা আর-রামলী (রাহঃ) প্রমুখ আ’মাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে, এই সুত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস (রাহঃ) আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সুত্রে বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস–আমাশের সুত্রে বর্ণিত হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। আবূ সালিহ–আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সুত্রে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ (রাহঃ) তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি আবূ সা’ঈদ (রাঃ) এর সুত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে ভিন্নভাবে বর্ণিত আছে। এই সূত্রটিও সহীহ।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৫৫৪-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে বা সূর্য দেখতে তাদের কোনো ভিড় ও কষ্ট হয় কি না। তারা বলেন, না। তখন তিনি জানান, তারা তাদের রবকে এমনভাবেই দেখবে—দেখার ক্ষেত্রে কোনো ভিড়, চাপ বা সংশয় থাকবে না। পূর্ণিমার চাঁদের মতো আল্লাহকে দেখা কথাটির উদ্দেশ্য হাদিসে দেখার স্পষ্টতা বোঝানো। এখানে আল্লাহকে চাঁদ বা সূর্যের সঙ্গে এক করা হয়নি; তুলনা এসেছে দেখার স্বচ্ছতা ও বাধাহীনতা বোঝাতে। তাই বর্ণনাকে তার ভাষাতেই গ্রহণ করা উচিত এবং কেমন করে দেখা হবে—এ নিয়ে অনুমান করা ঠিক নয়। হাদিসের মূল বার্তা হলো, মুমিনদের জন্য রবের দর্শন বাস্তব ও সন্দেহমুক্ত একটি আখিরাতের নেয়ামত। এই আশা মুমিনকে ঈমানের ওপর অটল থাকতে এবং আখিরাতের সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত হতে উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনদের রবের দর্শন স্পষ্ট ও ভিড়মুক্ত হবে।
- চাঁদ ও সূর্যের উদাহরণ দেখার স্বচ্ছতা বোঝায়, আল্লাহর সত্তার তুলনা নয়।
- আখিরাতের এই বিষয় নিয়ে হাদিসের সীমা ছাড়িয়ে কল্পনা করা উচিত নয়।
