৩৬/৪. অধ্যায়ঃ
জান্নাতের স্তরসমূহের বিবরণ
আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফিরদাউস চাওয়ার হাদিস ও আমলের শিক্ষা
জামে তিরমিযী : ২৫৩০
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫৩০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَصَلَّى الصَّلَوَاتِ وَحَجَّ الْبَيْتَ لاَ أَدْرِي أَذَكَرَ الزَّكَاةَ أَمْ لاَ إِلاَّ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ إِنْ هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ مَكَثَ بِأَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ بِهَا " . قَالَ مُعَاذٌ أَلاَ أُخْبِرُ بِهَذَا النَّاسَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَرِ النَّاسَ يَعْمَلُونَ فَإِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَى الْجَنَّةِ وَأَوْسَطُهَا وَفَوْقَ ذَلِكَ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَهَذَا عِنْدِي أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ هَمَّامٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . وَعَطَاءٌ لَمْ يُدْرِكْ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ وَمُعَاذٌ قَدِيمُ الْمَوْتِ مَاتَ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ .
মু'আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে লোক রমযানের রোজা রেখেছে, নামাজ আদায় করেছে এবং বাইতুল্লাহর হজ্জ আদায় করেছে—বর্ণনাকারী বলেন, মু’আজ (রাঃ) যাকাতের কথা বলেছেন কি-না আমার মনে নেই—তার অপরাধ ক্ষমা করা আল্লাহ (ﷺ) এর দায়িত্ব হয়ে যায়, চাই সে আল্লাহ (ﷺ) এর রাস্তায় হিজরত করুক কিংবা আপন জন্মস্থানেই অবস্থান করুক।মু’আজ (রাঃ) বলেন, আমি কি মানুষের নিকট এই খবর পৌঁছে দিব না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: লোকদেরকে আমল করতে ছেড়ে দাও। কেননা, জান্নাতে একশ স্তর রয়েছে। প্রত্যেক দুই স্তরের মাঝখানে আসমান-জমীনের সমান ব্যবধান বিদ্যমান।আর সর্বোচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট জান্নাত হচ্ছে ফিরদাউস। এর উপরেই রয়েছে আল্লাহ তা'আলার আরশ এবং এখান থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাসমূহ প্রবাহমান। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করার সময় ফিরদাউসের প্রার্থনা করবে।
সহীহ : সহীহাহ্ (৯২১)।আবূ 'ঈসা বলেন, এই হাদীসটি এভাবেই হিশাম ইবনু সা'ঈদ হতে, তিনি যাইদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি মু'আয ইবনু জাবাল হতে এই সনদে বর্ণিত হয়েছে। আমার মতে এই হাদীসটি অধিক সহীহ। হাম্মামের সূত্রে যাইদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি 'উবাদাহ্ ইবনু সামিত হতে এই সনদে বর্ণিত হাদীসের চাইতে। আতা মু'আয ইবনু জাবালের সাক্ষাৎ পাননি। মু'আয ইবনু জাবাল 'উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নেক আমল, ক্ষমা এবং জান্নাতুল ফিরদাউস চাওয়া। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রমযানের রোজা, নামাজ ও বাইতুল্লাহর হজের কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী যাকাতের উল্লেখ হয়েছিল কি না, তা মনে করতে পারেননি—এই সতর্কতাটিও পাঠে রাখা জরুরি। এরপর মু’আজ (রাঃ) মানুষকে সংবাদ দেওয়ার অনুমতি চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, মানুষকে আমল করতে দাও। কারণ জান্নাতে একশ স্তর আছে এবং প্রতিটি দুই স্তরের মাঝে আসমান-জমিনের সমান ব্যবধান। ফিরদাউসকে সর্বোচ্চ ও সর্বোৎকৃষ্ট জান্নাত বলা হয়েছে। তার ওপরে আল্লাহর আরশ এবং সেখান থেকে জান্নাতের ঝরনাগুলো প্রবাহিত হয়। তাই আল্লাহর কাছে চাইলে ফিরদাউস চাইতে বলা হয়েছে। হাদিসটি আশা রাখার পাশাপাশি আমল চালিয়ে যাওয়ার ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমযানের রোজা, নামাজ ও হজ এই হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে এসেছে।
- সুসংবাদ শুনেও আমল বন্ধ না করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
- জান্নাতে একশ স্তর এবং সেগুলোর মাঝে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
- আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইলে ফিরদাউস চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
