৩৫/৫৯. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে সাহাবীগণের এক অবস্থা এবং পরে অন্য অবস্থা
নিজের জন্য যা পছন্দ করেন, ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করুন
জামে তিরমিযী : ২৫১৫
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫১৫
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে সেটা তার ভাইয়ের জন্যও পছন্দ না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৬৬)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৫১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ভ্রাতৃত্ব ও কল্যাণকামিতা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। হাদিসটি মানুষের অন্তরের ইচ্ছা ও অন্যের প্রতি আচরণকে ঈমানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আমরা নিজের জন্য সম্মান, নিরাপত্তা, ভালো সুযোগ এবং উপকার চাই। একইভাবে মুসলিম ভাইয়ের জন্যও ভালো কিছু কামনা করা দরকার। কারও উন্নতিতে কষ্ট পাওয়া, তার ভালো সুযোগ নষ্ট করতে চাওয়া বা শুধু নিজের লাভ নিয়ে ভাবা এই শিক্ষার বিপরীত। ভাইয়ের কল্যাণ কামনা মানে নিজের অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং যে ভালো জিনিস নিজের জন্য পছন্দ করি, তা অন্যের জন্যও আন্তরিকভাবে পছন্দ করা। পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে এই মানসিকতা হিংসা কমাতে এবং পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়াতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের জন্য যে কল্যাণ চাই, মুসলিম ভাইয়ের জন্যও তা কামনা করা উচিত।
- অন্যের ভালো ও উন্নতিতে আন্তরিকভাবে খুশি হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
- হিংসা ও স্বার্থপরতা ঈমানি ভ্রাতৃত্বের ক্ষতি করে।
- কল্যাণকামী মনোভাব পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়।
