৩৫/৫৬. অধ্যায়ঃ
পরস্পর সুসম্পর্ক স্থাপন ও বিদ্বেষ বর্জন
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে ভালোবাসা বাড়াতে সালামের বিস্তার
জামে তিরমিযী : ২৫১০
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫১০
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَرْبِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَّ مَوْلَى الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الأُمَمِ قَبْلَكُمُ الْحَسَدُ وَالْبَغْضَاءُ هِيَ الْحَالِقَةُ لاَ أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَفَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِمَا يُثَبِّتُ ذَاكُمْ لَكُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ قَدِ اخْتَلَفُوا فِي رِوَايَتِهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ مَوْلَى الزُّبَيْرِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنِ الزُّبَيْرِ .
যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের আগেকার উম্মতদের রোগ তোমাদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। তা হলো পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা। আর এই রোগ মুণ্ডন করে দেয়। আমি বলছি না যে, চুল মুণ্ডন করে দেয়, বরং এটা দ্বীনকে মুণ্ডন (বিনাশ) করে দেয়। সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তোমরা যদি পরস্পরকে না ভালোবাসো তাহলে ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, পারস্পরিক ভালোবাসা কোন কাজের মাধ্যমে মজবুত হয়? তোমরা পরস্পর সালামের বিস্তার ঘটাও।
হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (৩/১২), ইরওয়া (২৩৮), তাখরীজু মুশকিলাতিল ফাকর (২০), গাইয়াতুল মারাম (৪১৪), সহীহুল আদব (১৯৭)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর হতে বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীগণ মতবিরোধ করেছেন। তাদের অনেকে এই হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর-ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালীদ হতে, তিনি যুবাইরের আযাদকৃত গোলাম হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সনদের মধ্যে যুবাইর (রাঃ)-এর নাম যুক্ত করেননি।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৫১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাম ও ভালোবাসা। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, আগের জাতিগুলোর হিংসা ও ঘৃণার রোগ মুসলিমদের মধ্যেও প্রবেশ করেছে। তিনি এটিকে এমন এক রোগ বলেছেন, যা চুল নয়, বরং দ্বীনকে মুণ্ডন করে দেয়। এরপর ঈমান, জান্নাতে প্রবেশ এবং পারস্পরিক ভালোবাসার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ একে অপরকে ভালো না বাসলে তাদের ঈমানি সম্পর্ক পূর্ণ শক্তি পায় না। এই ভালোবাসা মজবুত করার একটি সহজ কাজ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পরস্পরের মধ্যে সালামের বিস্তার ঘটাতে বলেছেন। তাই পরিচিত মানুষের পাশাপাশি অন্য মুসলিমের প্রতিও সালাম ছড়িয়ে দেওয়া সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়াতে পারে। হাদিসটি শুধু মুখে সালাম বলার কথা নয়; এর আগে হিংসা ও ঘৃণা ত্যাগের সতর্কতাও রয়েছে। হৃদয়ের বিদ্বেষ কমানো এবং সালামের মাধ্যমে সৌহার্দ্য বাড়ানো—দুটি শিক্ষা এখানে একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিংসা ও ঘৃণা মানুষের দ্বীনি অবস্থার ক্ষতি করে।
- পারস্পরিক ভালোবাসা ঈমানি সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মুসলিমদের মধ্যে বেশি করে সালাম ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
- সালামের সঙ্গে হৃদয়ের বিদ্বেষ দূর করার চেষ্টাও প্রয়োজন।
