৩৫/৫৬. অধ্যায়ঃ
পরস্পর সুসম্পর্ক স্থাপন ও বিদ্বেষ বর্জন
হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা থেকে দ্বীন রক্ষার হাদিস
জামে তিরমিযী : ২৫০৮
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫০৮
حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ، هُوَ مِنْ وَلَدِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَخْنَسِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِيَّاكُمْ وَسُوءَ ذَاتِ الْبَيْنِ فَإِنَّهَا الْحَالِقَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " وَسُوءَ ذَاتِ الْبَيْنِ " . إِنَّمَا يَعْنِي الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ وَقَوْلُهُ " الْحَالِقَةُ " . يَقُولُ إِنَّهَا تَحْلِقُ الدِّينَ .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা হতে নিবৃত্ত থাকো। কেননা, তা দ্বীনকে মুন্ডন (বিনাশ) করে দেয়।
হাসানঃ মিশকাত তাহক্বীক্ব ছানী (৫০৪১)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ, তবে এই সূত্রে গারীব। “সূআযাতিল বাইন” কথার অর্থঃ পরস্পর শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ। আর “আল-হালিকাতু” শব্দের অর্থঃ দ্বীনকে মুন্ডনকারী (বিনাশকারী)।
জামে তিরমিযী হাদিস ২৫০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিদ্বেষ বর্জন। নবী (صلى الله عليه وسلم) পরস্পরের সম্পর্ক নষ্টকারী শত্রুতা ও ঘৃণা থেকে সতর্ক করেছেন। হাদিসে একে এমন একটি বিষয় বলা হয়েছে, যা দ্বীনকে মুণ্ডন বা বিনাশ করে দেয়। অর্থাৎ পারস্পরিক বিদ্বেষ শুধু সামাজিক শান্তি নষ্ট করে না; এটি মানুষের দ্বীনি অবস্থার ওপরও গুরুতর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন রাগ ধরে রাখা, শত্রুতা বাড়ানো এবং একে অপরের ক্ষতি চাওয়া সম্পর্ককে আরও খারাপ করে। তাই কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা বাড়িয়ে না দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করা দরকার। নিজের মনে ঘৃণা জমিয়ে রাখা এবং কথায় বা কাজে তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। হাদিসটি আমাদের সতর্ক করে যে, সম্পর্কের অবনতি ছোট বিষয় নয়। দ্বীন রক্ষার জন্য হৃদয়কে বিদ্বেষ থেকে বাঁচানো এবং মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পারস্পরিক শত্রুতা ও ঘৃণা দ্বীনের ক্ষতি করে।
- মনের মধ্যে দীর্ঘদিন বিদ্বেষ জমিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- বিরোধকে আরও বাড়ানোর বদলে শান্ত করার চেষ্টা করা উচিত।
- সুসম্পর্ক রক্ষা দ্বীনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
