৩৫/৩. অধ্যায়ঃ
হাশরের ময়দানের অবস্থা
কেয়ামতের দিন হাশর: হাঁটিয়ে, সাওয়ারিতে ও মুখের ওপর টেনে নেওয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪২৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪২৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّكُمْ مَحْشُورُونَ رِجَالاً وَرُكْبَانًا وَتُجَرُّونَ عَلَى وُجُوهِكُمْ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
বাহ্য ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে তার বাবা, অতঃপর তার দাদা হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: (কেয়ামত দিবসে) তোমাদের পায়ে হাঁটিয়ে, সাওয়ারি হিসেবে এবং কিছু সংখ্যককে মুখের উপর উপুড় করে টেনে হাজির করা হবে।
সহীহ, ফাযাইলুশ্শাম (১৩)।আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে কেয়ামতের দিন মানুষের হাশরের তিন ধরনের অবস্থা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, কিছু মানুষকে পায়ে হাঁটিয়ে হাজির করা হবে। কিছু মানুষ সাওয়ারিতে থাকবে। আবার কিছু মানুষকে মুখের ওপর উপুড় করে টেনে নেওয়া হবে। বর্ণনাটি খুব ছোট হলেও এর বার্তা গভীর। কেয়ামতের সমাবেশে সবার অবস্থা এক হবে না। কারও জন্য চলার ধরন সম্মানজনক হতে পারে, আবার কারও অবস্থা হবে অপমানজনক ও কষ্টকর। হাদিসে কারা কোন অবস্থায় থাকবে, সে বিষয়ে বাড়তি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই এর বাইরে কোনো ব্যক্তি বা দলের ব্যাপারে নিশ্চিত দাবি করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, হাশর বাস্তব এবং মানুষকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। এই বর্ণনা নিজের আমল নিয়ে ভাবতে এবং কেয়ামতের দিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিন মানুষের হাশরের অবস্থা এক রকম হবে না।
- কিছু মানুষ হাঁটবে, কিছু সাওয়ারিতে থাকবে এবং কিছু মুখের ওপর টেনে নেওয়া হবে।
- হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, তার বাইরে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিণতি নিশ্চিত করা উচিত নয়।
