৩৫/২. অধ্যায়ঃ
হিসাব-নিকাশ ও প্রতিশোধ প্রসঙ্গে
মানুষের হক নষ্ট করলে আজই ক্ষমা চান ও হক ফিরিয়ে দিন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪১৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪১৯
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَنَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ، يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ عَبْدًا كَانَتْ لأَخِيهِ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ فِي عِرْضٍ أَوْ مَالٍ فَجَاءَهُ فَاسْتَحَلَّهُ قَبْلَ أَنْ يُؤْخَذَ وَلَيْسَ ثَمَّ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ فَإِنْ كَانَتْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ حَسَنَاتِهِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ حَمَّلُوا عَلَيْهِ مِنْ سَيِّئَاتِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ . وَقَدْ رَوَاهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই বান্দার উপর আল্লাহ তাআলা রহমত বর্ষণ করুন, যে তার কোনো ভাইয়ের মান-সম্মান ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে জুলুম করেছে। কেয়ামত দিবসে এ ব্যাপারে তাকে পাকড়াও করার পূর্বেই যেন সে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কারণ, সে স্থানে (আখিরাতে) দিরহাম, দিনারের (বিনিময় প্রদানের) ব্যবস্থা থাকবে না। সুতরাং তার কোনো ভালো আমল থাকলে (জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী) তা নিয়ে যাওয়া হবে। আর যদি কোনো ভালো আমল না থাকে, তাহলে মজলুমদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে।
সহীহ্, সহীহাহ্ (৩২৬৫)।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্ এবং সাঈদ আল-মাকবুরীর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব। মালিক ইবনু আনাস-সাঈদ আল-মাকবুরী হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রেও উপরের হাদীসের মতোই বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মানুষের সম্মান ও সম্পদের ব্যাপারে জুলুম করলে দ্রুত সমাধান করার কথা বলা হয়েছে। যার ওপর অন্যায় হয়েছে, কেয়ামতের আগে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া দরকার। কারণ আখিরাতে টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ করার সুযোগ থাকবে না। সেখানে জালিমের ভালো আমল থাকলে জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা মজলুমকে দেওয়া হবে। আর ভালো আমল না থাকলে মজলুমের গুনাহ জালিমের ওপর চাপানো হবে। তাই শুধু মনে মনে অনুতপ্ত হওয়া যথেষ্ট নয়; সম্ভব হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার ক্ষমা নেওয়া প্রয়োজন। মানহানি করলে সম্মান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, সম্পদ নিলে তা ফেরত দেওয়া—এসব এই শিক্ষার বাস্তব দিক। হাদিসটি দেরি না করতে বলে, কারণ দুনিয়ায় সংশোধনের পথ আছে, কিন্তু কেয়ামতের হিসাব হবে আমল দিয়ে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও মান-সম্মান বা সম্পদে জুলুম করলে দুনিয়াতেই ক্ষমা চাওয়া উচিত।
- আখিরাতে অর্থ নয়, নেক আমল দিয়ে ক্ষতিপূরণ হতে পারে।
- অনুতাপের সঙ্গে সম্ভব হলে হক ফেরত দেওয়ার বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।
