৩৫/১. অধ্যায়ঃ
কেয়ামত প্রসঙ্গে
অর্ধেক খেজুরের দানও ছোট নয়: কেয়ামতের প্রস্তুতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪১৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪১৫
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْكُمْ مِنْ رَجُلٍ إِلاَّ سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تَرْجُمَانٌ فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى شَيْئًا إِلاَّ شَيْئًا قَدَّمَهُ ثُمَّ يَنْظُرُ أَشْأَمَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى شَيْئًا إِلاَّ شَيْئًا قَدَّمَهُ ثُمَّ يَنْظُرُ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ فَتَسْتَقْبِلُهُ النَّارُ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَقِيَ وَجْهَهُ حَرَّ النَّارِ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَلْيَفْعَلْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .حَدَّثَنَا أَبُو السَّائِبِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، يَوْمًا بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الأَعْمَشِ، فَلَمَّا فَرَغَ وَكِيعٌ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مَنْ كَانَ هَا هُنَا مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ فَلْيَحْتَسِبْ فِي إِظْهَارِ هَذَا الْحَدِيثِ بِخُرَاسَانَ لأَنَّ الْجَهْمِيَّةَ يُنْكِرُونَ هَذَا . اسْمُ أَبِي السَّائِبِ سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ بْنِ سَلْمِ بْنِ خَالِدِ بْنِ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ الْكُوفِيُّ .
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সকলের সাথেই তার প্রতিপালক আল্লাহ তা’আলা কেয়ামতের দিবসে কথা বলবেন। তার ও তার প্রতিপালকের মধ্যে কোন দোভাষী থাকবে না। সে তার ডান পাশে তাকিয়ে তার দুনিয়াবী জীবনে পাঠানো আমল ব্যতীত আর কোন কিছুই দেখতে পাবে না। সে তার বাম পাশে তাকিয়েও তার দুনিয়াবী জীবনে কৃত আমল ব্যতীত আর কোন কিছুই দেখতে পাবে না। তারপর সে তার সম্মুখে তাকাতেই জাহান্নাম দেখতে পাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও জাহান্নাম হতে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয় সে যেন তাই করে।
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৮৫), বুখারী, মুসলিম।আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবুস সাইব বলেন, উপরোক্ত হাদীসটি একদিন ওয়াকী (রাহঃ) আমাদের নিকট ‘আমাশের সূত্রে বর্ণনা করেন। বর্ণনাশেষে তিনি বলেন, যদি খুরাসানবাসী কোন ব্যক্তি এখানে উপস্থিত থাকে তাহলে সে যেন এ হাদীসটি খুরাসানে প্রচার করাকে সাওয়াবের কাজ মনে করে। কেননা, জাহমিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এটা (মানুষের সাথে আল্লাহ্ তা'আলার কথা বলার বিষয়টি) অস্বীকার করে। আবুস সাইবের নাম সালম ইবনু জুনাদা ইবনু সালম ইবনু খালিদ ইবনু জাবির ইবনু সামুরা আল-কূফী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের ব্যক্তিগত জবাবদিহির দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে তার রব কথা বলবেন এবং মাঝখানে কোনো দোভাষী থাকবে না। ডানে ও বামে তাকিয়ে সে দুনিয়ায় আগে পাঠানো নিজের আমল ছাড়া কিছু দেখবে না। সামনে জাহান্নাম দেখতে পাবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে আগুন থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে বলেছেন, এমনকি তা অর্ধেক খেজুর হলেও। মূল শিক্ষা হলো ছোট নেক আমলকে তুচ্ছ না করা। অনেকেই বড় সুযোগের অপেক্ষায় ভালো কাজ পিছিয়ে দেয়, অথচ সামান্য দানও মূল্যবান হতে পারে। হাদিসটি আরও মনে করায়, কেয়ামতের দিনে অন্যের পরিচয় বা বাহ্যিক মর্যাদা নয়, নিজের পাঠানো আমল সামনে থাকবে। তাই যতটুকু সম্ভব, আজ থেকেই কল্যাণের কাজ করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতে প্রত্যেক মানুষ নিজের আমলের মুখোমুখি হবে।
- সামান্য দানকেও তুচ্ছ করা উচিত নয়।
- সামর্থ্য অনুযায়ী নেক কাজ করে আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে হবে।
