৩৪/৬৩. অধ্যায়ঃ
প্রত্যেক দাবিদারের দাবি পূরণ করতে হবে
দেহ, রব, পরিবার ও মেহমান—প্রত্যেকের হক আদায় করুন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪১৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ آخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ سَلْمَانَ وَبَيْنَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فَزَارَ سَلْمَانُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَرَأَى أُمَّ الدَّرْدَاءِ مُتَبَذِّلَةً فَقَالَ مَا شَأْنُكِ مُتَبَذِّلَةً قَالَتْ إِنَّ أَخَاكَ أَبَا الدَّرْدَاءِ لَيْسَ لَهُ حَاجَةٌ فِي الدُّنْيَا . قَالَ فَلَمَّا جَاءَ أَبُو الدَّرْدَاءِ قَرَّبَ إِلَيْهِ طَعَامًا فَقَالَ كُلْ فَإِنِّي صَائِمٌ . قَالَ مَا أَنَا بِآكِلٍ حَتَّى تَأْكُلَ . قَالَ فَأَكَلَ فَلَمَّا كَانَ اللَّيْلُ ذَهَبَ أَبُو الدَّرْدَاءِ لِيَقُومَ فَقَالَ لَهُ سَلْمَانُ نَمْ . فَنَامَ ثُمَّ ذَهَبَ يَقُومُ فَقَالَ لَهُ نَمْ . فَنَامَ فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ الصُّبْحِ قَالَ لَهُ سَلْمَانُ قُمِ الآنَ فَقَامَا فَصَلَّيَا فَقَالَ إِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِرَبِّكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا فَأَعْطِ كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ . فَأَتَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَا ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ " صَدَقَ سَلْمَانُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو الْعُمَيْسِ اسْمُهُ عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ أَخُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَسْعُودِيِّ .
আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালমান (ফারসী) ও আবুদ দারদা (রাঃ)-এর মধ্যে ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি করে দেন। কোন একদিন আবুদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে সালমান (রাঃ) দেখা করতে আসেন। তখন তিনি তার স্ত্রী উম্মুদ দারদাকে খুবই সাধারণ জামা-কাপড় পরে থাকাবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করেন, আপনি এরূপ সাধারণ পোশাকে কেন? তিনি বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার তো দুনিয়ার কিছু প্রয়োজন নেই।বর্ণনাকারী বলেন, আবুদ দারদা (রাঃ) এরই মধ্যে বাড়ি ফিরে আসলেন এবং তার (মেহমানের) সামনে খাবার পরিবেশন করে বললেন, আপনি খেয়ে নিন, আমি রোজা রেখেছি। তিনি বললেন, আপনি না খাওয়া পর্যন্ত আমি খাব না। তারপর তিনি খাবার খেলেন।রাত গভীর হলে আবুদ দারদা (রাঃ) সালাত আদায় করার জন্য উঠেন। সালমান (রাঃ) তাকে বললেন, এখন ঘুমান। সুতরাং তিনি ঘুমালেন। কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় সালাত আদায় করতে উঠলে এবারো তিনি বললেন, ঘুমিয়ে থাকুন (রাত অনেক বাকি)। কাজেই তিনি ঘুমিয়ে গেলেন। তারপর ফজরের সময় ঘনিয়ে এলে সালমান (রাঃ) তাকে বললেন, এখন উঠুন। তারপর দু’জনেই উঠে (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায় করলেন।তারপর তিনি বললেন, আপনার উপর আপনার দেহের প্রাপ্য (অধিকার) আছে এবং আপনার রবের প্রাপ্য (অধিকার) আছে, মেহমানের প্রাপ্য (অধিকার) আছে এবং আপনার পরিবারের (অধিকার) আছে। অতএব, প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য (অধিকার) প্রদান করুন। তারপর তারা এ ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন। তিনি বললেন: সালমান ঠিকই বলেছে।
সহীহ্ , মুখতাসার বুখারী (৯৬৫), মুসলিম।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ্। আবুল উমাইস-এর নাম উতবা ইবনু আবদুল্লাহ। তিনি আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ আল-মাসঊদীর ভাই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবাদত ও জীবনের দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্যের সুন্দর শিক্ষা আছে। আবুদ দারদা (রাঃ) নফল রোজা ও রাতের সালাতে এত মনোযোগী ছিলেন যে, সালমান (রাঃ) তাকে খাবার খেতে, কিছু সময় ঘুমাতে এবং পরে সালাত আদায় করতে বলেন। এরপর তিনি বুঝিয়ে দেন—মানুষের ওপর তার নিজের দেহের অধিকার আছে, তার রবের অধিকার আছে, মেহমানের অধিকার আছে এবং পরিবারেরও অধিকার আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালমানের কথাকে সঠিক বলেছেন। হাদিসটি ইবাদত কম গুরুত্বের বলে না; বরং ইবাদতের নামে অন্য দায়িত্ব নষ্ট না করতে শেখায়। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া, পরিবারকে সময় দেওয়া, মেহমানের যত্ন নেওয়া এবং আল্লাহর ইবাদত করা—সবই যথাস্থানে রাখতে হবে। একটি হক আদায় করতে গিয়ে অন্য হক অবহেলা করা সঠিক ভারসাম্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের দেহের বিশ্রাম ও প্রয়োজনেরও অধিকার আছে।
- আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি পরিবার ও মেহমানের হক আদায় করতে হবে।
- একটি দায়িত্ব পালনের কারণে অন্য হকদারের অধিকার নষ্ট করা উচিত নয়।
