২/৬৬. অধ্যায়ঃ
তাকবীরে উলার ফজিলত
তাকবীরে উলা ও জামাতে নামাজের ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪১
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ عَنْ طُعْمَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَنَسٍ مَوْقُوفًا وَلاَ أَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ إِلاَّ مَا رَوَى سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ عَنْ طُعْمَةَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ .وَإِنَّمَا يُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ الْبَجَلِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَوْلُهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، هَنَّادٌ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ خَالِدِ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ الْبَجَلِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَرَوَى إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا . وَهَذَا حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَهُوَ حَدِيثٌ مُرْسَلٌ وَعُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ لَمْ يُدْرِكْ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ يُكْنَى أَبَا الْكَشُوثَى وَيُقَالُ أَبُو عُمَيْرَةَ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তোষ অর্জনের উদ্দেশ্যে একাধারে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার (প্রথম তাকবীর) সাথে জামা’আতে নামাজ আদায় করতে পারলে তাকে দুটি নাজাতের ছাড়পত্র দেওয়া হয়: জাহান্নাম হতে নাজাত এবং মুনাফিকী হতে মুক্তি।
হাসান। তা’লীকুর রাগীব-(১/১৫১), সহীহাহ্- (২৬৫২)।আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি আনসের নিকট হতে একাধিক সূত্রে মাওকূফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লমের কথা নয়, আনাসের কথা হিসাবে)। হাবীব ইবনু আবী সাবিত ব্যাতীত অন্য কোন সূত্রে হাদীসটি মারফূরূপে বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। বরং হাদীসটি হাবীব ইবনু আবী হাবীব আল-বাজালীর সূত্রে আনাস হতে মাওকূফ রূপে বর্ণিত হয়েছে। অপর একটি সূত্রে দেখা যায়, আনাস (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লমের নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনাটি অসংরক্ষিত এবং মুরসাল। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বলেন, হাবীব ইবনু আবী হবীবের উপনাম আবূ কাশূসা বা আবূ উমাইরাহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো জামাতে নামাজকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নামাজের শুরু থেকেই উপস্থিত থাকার চেষ্টা করা। এখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একাধারে চল্লিশ দিন জামাতে নামাজ পড়ে এবং তাকবীরে উলা পায়, তার জন্য দুটি মুক্তির কথা লেখা হয়। একটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি, আরেকটি মুনাফিকী থেকে মুক্তি। তাই তাকবীরে উলা শুধু সময়মতো নামাজে দাঁড়ানোর বিষয় নয়, এটি মনোযোগ, নিয়মিততা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি চাওয়ার চিহ্ন। হাদিসের ভাষায় কাজটি আল্লাহর জন্য হওয়া জরুরি। তাই মানুষ দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজের ঈমানকে ঠিক রাখার জন্য জামাতে নামাজে আগে থেকে হাজির হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে নামাজে শুরু থেকে শরিক হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
- তাকবীরে উলা পাওয়া নিয়মিত নামাজের সুন্দর অভ্যাস গড়ে তোলে।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত ছাড়া আমলের আসল মূল্য কমে যায়।
- এই হাদিস মুনাফিকী থেকে বাঁচার জন্য নামাজে যত্নবান হওয়ার শিক্ষা দেয়।
