৩৪/৩৭. অধ্যায়ঃ
ধনীদের পূর্বে দরিদ্র মুহাজিরগণ জান্নাতে প্রবেশ করবেন
দরিদ্রকে ফিরিয়ে নয়: সামান্য দান ও ভালোবাসার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৩৫২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৩৫২
حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَابِدُ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ النُّعْمَانِ اللَّيْثِيُّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " إِنَّهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا يَا عَائِشَةُ لاَ تَرُدِّي الْمِسْكِينَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ يَا عَائِشَةُ أَحِبِّي الْمَسَاكِينَ وَقَرِّبِيهِمْ فَإِنَّ اللَّهَ يُقَرِّبُكِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (দোয়া করে) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখ, দরিদ্র থাকাবস্থায় মৃত্যু দাও এবং কেয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর করো।(একথা শুনে) আয়িশা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কেন এরূপ বলছেন? তিনি বললেনঃ হে আয়িশা! তারা তো তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়িশা! তুমি যাঞ্চাকারী দরিদ্রকে ফিরিয়ে দিও না। যদি দেওয়ার মতো কিছু তোমার নিকট না থাকে, তাহলে একটি খেজুরের টুকরা হলেও তাকে দিও। হে আয়িশা! তুমি দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদেরকে তোমার সান্নিধ্যে রাখবে। তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে তাঁর সান্নিধ্যে রাখবেন।
সহীহ্ , ইবনু মা-জাহ (৪১২৬)।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৩৫২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: দরিদ্রদের ভালোবাসা। হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দরিদ্র অবস্থায় জীবন, মৃত্যু ও কিয়ামতে দরিদ্রদের সঙ্গে হাশরের দোয়া করেছেন। আয়িশা রা. কারণ জানতে চাইলে তিনি দরিদ্রদের জান্নাতে আগে প্রবেশের কথা বলেন। এরপর খুব বাস্তব নির্দেশ দেন—যে দরিদ্র কিছু চাইতে আসে, তাকে ফিরিয়ে না দিতে; দেওয়ার মতো বেশি কিছু না থাকলেও খেজুরের একটি অংশ দেওয়ার চেষ্টা করতে। আরও বলেন, দরিদ্রদের ভালোবাসতে এবং কাছে রাখতে। এই হাদিসের শিক্ষা কেবল অর্থের পরিমাণ নিয়ে নয়; মনোভাব, সম্মান ও সান্নিধ্য নিয়েও। সামান্য দানকে তুচ্ছ না করা এবং দরিদ্র মানুষকে অবহেলা না করা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্ণনায় যা বলা হয়েছে, সেটুকুই মানতে হবে; এর বাইরে কারও আখিরাত সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দরিদ্র সাহায্যপ্রার্থীকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
- অল্প দানকেও তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়।
- দরিদ্রদের ভালোবাসা, সম্মান দেওয়া এবং কাছে রাখা হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
