৩৩/১. অধ্যায়ঃ
সাক্ষীগণের মধ্যে কে উত্তম ?
উত্তম সাক্ষীর হাদিসে বর্ণনাকারী আলোচনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২২৯৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২২৯৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، نَحْوَهُ وَقَالَ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَكْثَرُ النَّاسِ يَقُولُونَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ وَاخْتَلَفُوا عَلَى مَالِكٍ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْحَدِيثِ فَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ أَبِي عَمْرَةَ وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنِ ابْنِ أَبِي عَمْرَةَ وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ الأَنْصَارِيُّ وَهَذَا أَصَحُّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ حَدِيثِ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ غَيْرُ هَذَا الْحَدِيثِ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَيْضًا وَأَبُو عَمْرَةَ مَوْلَى زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ وَلَهُ حَدِيثُ الْغُلُولِ وَأَكْثَرُ النَّاسِ يَقُولُونَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ .
আহ্মাদ ইবনুল হাসান-আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা হতে বর্ণিতঃ
তিনি মালিক (রহঃ)-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা তার রিওয়ায়াতে আবী আমরার স্থলে মালিক ইবনু আবী আমরা বলেছেন। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। বেশিরভাগ মুহাদ্দিস বলেছেন, ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবী আমরা। মালিক হতে এ হাদীসের বর্ণনাতে মতানৈক্য এই যে, কেউ বলেন, আবূ আমরা এবং কেউ বলেন, ইবনু আবী আমরা আনসারী। আমাদের মতে শেষেরটিই সহীহ। কারণ, মালিক (রহঃ) ব্যতীত অন্য সনদসূত্রে ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবী আমরা-যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে এভাবে উল্লেখ আছে। আর উক্ত হাদীস ব্যতীত ইবনু আবী আমরা হতে যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর সূত্রে অন্য হাদীসও বর্ণিত আছে এবং সেটিও সহীহ হাদীস। আবূ আমরা হলেন যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ)-এর মু্ক্তদাস। আবূ আমরার সূত্রে গনীমত অর্থাৎ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আত্মসাৎ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত আছে। আর অধিকাংশ বর্ণনাকারীগণই তাকে ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবী আমরাই বলেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের উত্তম সাক্ষী সম্পর্কিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা এসেছে। এখানে মূল আলোচনার বড় অংশ বর্ণনাকারীর নাম ও সনদ নিয়ে। আবূ ঈসা বলেন, হাদিসটি হাসান। এরপর মালিক (রহঃ)-এর বর্ণনায় আবূ আমরা, ইবনু আবী আমরা, আবদুর রহমান ইবনু আবী আমরা—এই নামগুলো নিয়ে মতভেদের কথা বলা হয়েছে। শেষে কোনটি বেশি সহীহ বলে ধরা হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাদিস আমাদের দেখায়, ইসলামী জ্ঞানে শুধু বক্তব্য নয়, কে কার কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন সেটিও যাচাই করা হয়। সত্য সাক্ষ্যের বিষয়েও নির্ভরযোগ্যতা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসের সনদ যাচাই ইসলামী জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- বর্ণনাকারীর নামের পার্থক্যও আলিমরা খেয়াল করেছেন।
- সত্য সাক্ষ্যের আলোচনায় নির্ভরযোগ্যতা দরকার।
- দ্বীনি তথ্য গ্রহণে যাচাই-বাছাই করা উচিত।
