৩১/৩৯. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণী: আমার প্রেরণ ও কেয়ামত এই দুই আঙ্গুলের মত কাছাকাছি
কেয়ামতের নৈকট্য: নবীজির প্রেরণ সম্পর্কে হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২২১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২২১৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ هَيَّاجٍ الأَسَدِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَرْحَبِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ بْنُ الأَسْوَدِ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ الْفِهْرِيِّ، رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بُعِثْتُ فِي نَفَسِ السَّاعَةِ فَسَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هَذِهِ هَذِهِ " . لإِصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আল-মুস্তাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ আল-ফিহ্রী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন: আমি তো কেয়ামতের শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে (কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার নিকটতর সময়ে) প্রেরিত হয়েছি। আমি তার অগ্রে এসেছি মাত্র যেমন এটি ও এটি অর্থাৎ তর্জনী ও মধ্যমার মাঝে যতটুকু দূরত্ব (আমার ও কেয়ামতের মধ্যে সে রকমই নিকটতর দূরত্ব)।
যঈফ, মিশকাত (৫৫১৩)আবূ ঈসা বলেন, আল-মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীসটি গারীব। কেননা এই সূত্রেই শুধুমাত্র আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২২১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কেয়ামতের নৈকট্য। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিনি কেয়ামতের শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি কেয়ামতের আগে এসেছেন যেমন তর্জনী ও মধ্যমার মাঝে সামান্য ব্যবধান থাকে। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আগমন কেয়ামতের কাছাকাছি সময়ের বড় আলামত। এখানে নির্দিষ্ট দিন বা সময় বলা হয়নি। বরং সময়ের নিকটতা বোঝানো হয়েছে। তাই মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো, জীবনকে অবহেলায় না কাটানো। কেয়ামতের কথা মনে করলে নামাজ, ইবাদত, তাওবা ও ভালো কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। কেয়ামতের নৈকট্য হাদিস আমাদের দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রেরণ কেয়ামতের নৈকট্যের একটি বড় স্মরণ।
- কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় না জেনে প্রস্তুতির দিকে মন দেওয়া উচিত।
- জীবনকে অবহেলায় কাটানো মুমিনের জন্য ঠিক নয়।
