২৯/১. অধ্যায়ঃ
আযাদকারী ব্যক্তিই ওয়ালাআর অধিকারী
ওয়ালার অধিকার কার: মুক্তিদাতার হক সম্পর্কে হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১২৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১২৫
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ، بَرِيرَةَ فَاشْتَرَطُوا الْوَلاَءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْطَى الثَّمَنَ أَوْ لِمَنْ وَلِيَ النِّعْمَةَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বারীরা (রাঃ)-কে ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন। কিন্তু মালিকপক্ষ নিজেদের জন্য ওয়ালার শর্তারোপ করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি মূল্য পরিশোধ করে অথবা যে ব্যক্তি নিয়ামতের (আযাদকৃতের) মালিক সে-ই ওয়ালার অধিকারী।
সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৫৮৯), বুখারী, মুসলিম।আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস মুতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কেনার সময় মালিকপক্ষ নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার শর্ত করতে চেয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে দেন, যে ব্যক্তি মূল্য পরিশোধ করে এবং মুক্তির নিয়ামত দেয়, ওয়ালার অধিকার তারই। অর্থাৎ অধিকারটি শুধু পুরোনো মালিকের দাবির কারণে থেকে যায় না। যে ব্যক্তি বাস্তবে মুক্তির কারণ হয়েছে, এই বিশেষ সম্পর্ক তার সঙ্গে যুক্ত হবে। হাদিসটি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রকৃত অবদান ও নির্ধারিত অধিকারের মধ্যে যোগসূত্র দেখায়। কেউ অর্থ না দিয়ে বা মুক্ত না করেও শুধু শর্তের মাধ্যমে এমন অধিকার নিজের নামে রাখতে পারে না। তাই ওয়ালা, মুক্তি এবং ক্রয়সংক্রান্ত শর্তে কথার চেয়ে শরিয়ত নির্ধারিত নীতিই চূড়ান্ত। পক্ষগুলোর উচিত লেনদেনের আগে অধিকার ও দায় পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনি দাস বা দাসীকে মুক্ত করেন, ওয়ালার অধিকার তার।
- মূল্য অন্যজন দিলে পুরোনো মালিক শুধু শর্ত করে ওয়ালা রাখতে পারে না।
- চুক্তির অধিকার প্রকৃত কাজ ও শরিয়তের বিধানের সঙ্গে মিলতে হবে।
- লেনদেনের আগে মূল্য, মুক্তি ও পরবর্তী অধিকারের বিষয় স্পষ্ট করা উচিত।
