২৫/৮০. অধ্যায়ঃ
অল্প কথা বলা
লজ্জা ঈমানের শাখা: অল্প কথা ও ভদ্র ভাষার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২০২৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০২৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ أَبِي غَسَّانَ، مُحَمَّدِ بْنِ مُطَرِّفٍ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْحَيَاءُ وَالْعِيُّ شُعْبَتَانِ مِنَ الإِيمَانِ وَالْبَذَاءُ وَالْبَيَانُ شُعْبَتَانِ مِنَ النِّفَاقِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي غَسَّانَ مُحَمَّدِ بْنِ مُطَرِّفٍ . قَالَ وَالْعِيُّ قِلَّةُ الْكَلاَمِ وَالْبَذَاءُ هُوَ الْفُحْشُ فِي الْكَلاَمِ وَالْبَيَانُ هُوَ كَثْرَةُ الْكَلاَمِ مِثْلُ هَؤُلاَءِ الْخُطَبَاءِ الَّذِينَ يَخْطُبُونَ فَيُوَسِّعُونَ فِي الْكَلاَمِ وَيَتَفَصَّحُونَ فِيهِ مِنْ مَدْحِ النَّاسِ فِيمَا لاَ يُرْضِي اللَّهَ .
আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: লজ্জা-সম্ভ্রম ও অল্প কথা বলা ঈমানের দুইটি শাখা। অশ্লীলতা ও বাকপটুতা (বাচালতা) নিফাকের (মুনাফিকীর) দুইটি শাখা।
সহীহ, ঈমান ইবনে আবী শাইবা (১১৮) , মিশকাত তাহকীক ছানী (৪৭৯৬)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটিকে আবূ গাসান মুহাম্মাদ ইবনু মুতারিরকের হাদীস হিসাবে জেনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আল-আয়্যু’ অর্থ স্বল্পবাক ‘আল-বাযা-য়ু’ অর্থ অশ্লীল ও নির্লজ্জবাক ‘আল-বায়ান’ অর্থ বাকপটু, বাক্যবাগীশ। যেমন পেশাধারী বক্তারা লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়, কথার বন্যা ছুটিয়ে দেয় এবং বাকপটুতার আশ্রয় নিয়ে মানুষের এমন সব প্রশংসা করতে থাকে, যা আল্লাহ্ তা‘আলা মোটেই পছন্দ করেন না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কথা বলার আদব ও লজ্জাশীলতার শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, লজ্জা-সম্ভ্রম ও অল্প কথা বলা ঈমানের দুইটি শাখা। আর অশ্লীলতা ও বাচালতা নিফাকের দুইটি শাখা। এখানে অল্প কথা বলতে বোঝানো হয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলা এবং কথায় সংযম রাখা। আবার অশ্লীলতা মানে খারাপ, কটু বা নোংরা ভাষা। বেশি কথা বলে মানুষকে খুশি করার চেষ্টা, যা আল্লাহর পছন্দ নয়, সেটিও সতর্কতার বিষয়। তাই মুসলিমের ভাষা হওয়া উচিত ভদ্র, সংযত ও পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লজ্জা ও সংযত কথা ঈমানের সুন্দর শাখা।
- অশ্লীল ভাষা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
- অকারণে বেশি কথা বলা চরিত্রের ক্ষতি করতে পারে।
