২/৩৫. অধ্যায়ঃ
বিনা ওজুতে আযান দেয়া মাকরুহ
ওজু সহ আজান দেওয়ার গুরুত্ব: আজানের আদব ও পবিত্রতার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لاَ يُنَادِي بِالصَّلاَةِ إِلاَّ مُتَوَضِّئٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ لَمْ يَرْفَعْهُ ابْنُ وَهْبٍ وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ . وَالزُّهْرِيُّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الأَذَانِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ فَكَرِهَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَإِسْحَاقُ . وَرَخَّصَ فِي ذَلِكَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ .
ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেছেন, বিনা ওজুতে কেউ যেন নামাজের আজান না দেয়।
যঈফ, প্রাগুক্ত।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি পূর্বের হাদীস হতে বেশী সহীহ। ইবনু ওয়াহব্- আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটি মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেন নি। এটা ওয়ালীদ ইবনু মুসলিমের হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ। যুহরী কখনও আবূ হুরাইরার নিকট হাদীস শুনেননি। বিনা ওযূতে আযান দেওয়া উচিত কি-না সে সম্পর্কে আলিমদের মাঝে মতের অমিল আছে। ইমাম শাফিঈ এবং ইসহাক এটাকে মাকরূহ বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও আহমদ বিনা ওযূতে আযান দেবার অনুমতি দিয়েছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেছেন, বিনা ওজুতে কেউ যেন নামাজের আজান না দেয়। মূল শিক্ষা হলো, আজান শুধু সময় জানানোর ডাক নয়; এটি নামাজের দিকে ডাকার একটি সম্মানিত কাজ। তাই আজান দেওয়ার সময় পবিত্রতার প্রতি যত্ন নেওয়া ভালো আদবের অংশ। বর্ণনার শেষ অংশে ইমাম তিরমিযী আলেমদের মতভেদও উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বিনা ওজুতে আজান দেওয়া অপছন্দ করেছেন, আবার কেউ অনুমতি দিয়েছেন। তাই ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝি, আজান দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যতটা পারেন পবিত্র অবস্থায় থাকবেন এবং নামাজের ডাককে সম্মান করবেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজান দেওয়ার সময় পবিত্রতা ও আদবের দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
- ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারীর নিজের অবস্থাও সুন্দর ও পরিপাটি হওয়া ভালো।
- যেখানে আলেমদের মতভেদ আছে, সেখানে ভাষা ও সিদ্ধান্তে ভারসাম্য রাখা দরকার।
- নামাজের ডাককে সাধারণ ঘোষণা নয়, ইবাদতের সম্মানিত অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
