২৫/৪৩. অধ্যায়ঃ
মেহমানদারী ও এর সময়সীমা
মেহমানদারির সীমা: অতিথি ও গৃহস্থের আদব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৬৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৬৮
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَجَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَمَا أُنْفِقَ عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . وَقَدْ رَوَاهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيُّ هُوَ الْكَعْبِيُّ وَهُوَ الْعَدَوِيُّ اسْمُهُ خُوَيْلِدُ بْنُ عَمْرٍو . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " لاَ يَثْوِي عِنْدَهُ " . يَعْنِي الضَّيْفَ لاَ يُقِيمُ عِنْدَهُ حَتَّى يَشْتَدَّ عَلَى صَاحِبِ الْمَنْزِلِ وَالْحَرَجُ هُوَ الضِّيقُ إِنَّمَا قَوْلُهُ " حَتَّى يُحْرِجَهُ " . يَقُولُ حَتَّى يُضَيِّقَ عَلَيْهِ .
আবূ শুরাইহ আল-কা‘বী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত এবং জায়েজ হলো এক দিন ও এক রাতের পাথেয় প্রদান। এরপর তার জন্য যা ব্যয় করা হবে তা সদকারূপে গণ্য। অতিথিসেবক বিরক্ত হতে পারে—কোন মেহমানের পক্ষেই এতটা সময় সেখানে থাকা বৈধ নয়।
সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৩/২৪২) , বুখারী ও মুসলিম।আইশা ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সাঈদ আল-মাকবুরীর সূত্রে মালিক ইবনু আনাস ও লাইস (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। আবূ শুরাইহ্ আল-খুযাঈ হলেন আল-কা’বী। আর তিনিই আল-আদাবী, তার নাম খুওয়াইলিদ, পিতা আমর। “লা ইয়াসবী ইনদাহু” কথার মর্ম এই যে, মেহমানের এত দিন কোন পরিবারে থাকা যুক্তিসঙ্গত নয় যাতে তারা কষ্টের মধ্যে পতিত হয় এবং বিরক্তির কারণ হতে পারে। “হারাজ” অর্থ সংকট। “হাত্তা ইউহ্রিজাহু” কথার অর্থ এই যে, অনেকদিন থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য মেহমান সংকট তৈরী করল।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মেহমানদারির সময়সীমা এবং অতিথির আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত। আর জাঈযা হলো এক দিন ও এক রাতের পাথেয় প্রদান। এরপর অতিথির জন্য যা ব্যয় করা হয়, তা সদকারূপে গণ্য। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কোনো মেহমানের জন্য এমনভাবে অবস্থান করা বৈধ নয়, যাতে অতিথিসেবক বিরক্ত বা কষ্টে পড়ে। এখানে মেহমানদারি শুধু গৃহস্থের দায়িত্ব নয়; অতিথিরও দায়িত্ব আছে। ইসলাম অতিথিকে সম্মান করতে শেখায়, আবার গৃহস্থের কষ্টের কথাও বিবেচনা করে। তাই মেহমানের অধিকার, আতিথেয়তার আদব এবং সীমা মেনে চলা এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেহমানদারির সময়সীমা তিন দিন পর্যন্ত বলা হয়েছে।
- জাঈযা এক দিন ও এক রাতের পাথেয়।
- অতিরিক্ত ব্যয় সদকারূপে গণ্য হতে পারে।
- অতিথির উচিত গৃহস্থকে কষ্টে না ফেলা।
