২৫/১০. অধ্যায়ঃ
আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখা
প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক: সম্পর্ক ভাঙলেও যে যোগাযোগ রাখে
জামে তিরমিযী : ১৯০৮
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯০৮
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا بَشِيرٌ أَبُو إِسْمَاعِيلَ، وَفِطْرُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا انْقَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلْمَانَ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ .
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সমানরূপ ব্যবহারের মনোভাব নিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়; বরং কেউ কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক নষ্ট করলেও সে যদি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তবে সেই হচ্ছে প্রকৃত সম্পর্ক স্থাপনকারী।
সহীহ, গাইয়াতুল মারাম (৪০৪) , সহীহ আবূ দাঊদ (১৪৮৯) , বুখারী, মুসলিম।আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। সালমান, আইশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে তিরমিযী হাদিস ১৯০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার মানদণ্ড খুব সহজভাবে ঠিক করে দেয়। কেউ ভালো ব্যবহার করলে আমরাও ভালো ব্যবহার করলাম—এটি মূলত প্রতিদান। কিন্তু প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী সে, যার সঙ্গে আত্মীয়রা সম্পর্ক নষ্ট করলেও সে নিজের দিক থেকে সম্পর্ক বজায় রাখে। তাই সিলাতুর রাহিম শুধু সমান বিনিময়ের নাম নয়। অভিমান, অবহেলা বা একতরফা দূরত্বের সময়ও ন্যায্য ও সুন্দর যোগাযোগ ধরে রাখার চেষ্টা এর অংশ। হাদিসটি অন্যের ভুলকে সমর্থন করতে বলে না; বরং নিজের দায়িত্বকে অন্যের আচরণের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করতে শেখায়। সম্পর্ক কঠিন হয়ে গেলে প্রতিশোধমূলক বিচ্ছেদ না করে, সম্ভব সীমার মধ্যে যোগাযোগ ও আত্মীয়তার হক বজায় রাখাই এই বাণীর মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু সমান প্রতিদান দেওয়া প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষার পূর্ণ মানদণ্ড নয়।
- আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও নিজের দিক থেকে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।
- অভিমানকে স্থায়ী সম্পর্কচ্ছেদের কারণ বানানো ঠিক নয়।
- অন্যের আচরণের পরও নিজের দায়িত্ব ও ভদ্রতা ধরে রাখা দরকার।
