২৩/৪৬. অধ্যায়ঃ
রাতের খাবারের গুরুত্ব
রাতের খাবার সম্পর্কে হাদিস: বর্ণনার বক্তব্য ও দুর্বলতার সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৫৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৫৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَلاَّقٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَعَشَّوْا وَلَوْ بِكَفٍّ مِنْ حَشَفٍ فَإِنَّ تَرْكَ الْعَشَاءِ مَهْرَمَةٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَعَنْبَسَةُ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَلاَّقٍ مَجْهُولٌ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা অবশ্যই রাতের খাবার খাবে, তা একমুঠ খেজুর হলেও। কেননা রাতের খাবার বাদ দেয়া বার্ধক্যের কারণ।
যঈফ, যঈফা (১১৬)।আবূ ঈসা বলেছেন, এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) হাদীস। আমরা শুধু উল্লেখিত সূত্রে এটি জেনেছি। রাবী আনবাসাকে হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া আবদুল মালিক ইবনু আল্লাক একজন অখ্যাত-অপরিচিত রাবী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় রাতের খাবার। বর্ণনায় বলা হয়েছে, একমুঠ নিম্নমানের শুকনা খেজুর হলেও রাতের খাবার গ্রহণ করতে এবং তা বাদ না দিতে। রাতের খাবার ত্যাগকে বার্ধক্যের কারণ বলা হয়েছে। তবে হাদিসের শেষাংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবু ঈসা এটিকে মুনকার বা প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা বলেছেন। আরও বলা হয়েছে, আনবাসা ইবন আবদুর রহমান হাদিস বর্ণনায় দুর্বল এবং আবদুল মালিক ইবন আল্লাক অজ্ঞাত পরিচয়ের রাবি। তাই রাতের খাবার সম্পর্কে হাদিসটি সহিহ ও নিশ্চিত নববী নির্দেশ হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে রাতের খাবার বাদ দিলেই মানুষ দ্রুত বৃদ্ধ হবে—এমন নিশ্চিত স্বাস্থ্য দাবি এ দুর্বল বর্ণনার ওপর দাঁড় করানো যাবে না। কেউ নিজের স্বাস্থ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের সময় ঠিক করবেন। এখানে পাঠ্যের বক্তব্য জানানো যায়, কিন্তু একই সঙ্গে এর মুনকার মানও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় অল্প হলেও রাতের খাবার গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
- হাদিসটিকে মুনকার এবং এর রাবিদের দুর্বল বলা হয়েছে।
- এ বর্ণনা দিয়ে নিশ্চিত চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়।
- হাদিস উদ্ধৃত করলে এর দুর্বলতার তথ্যও উল্লেখ করা দরকার।
