২৩/৬. অধ্যায়ঃ
গৃহপালিত গাধার গোশত প্রসঙ্গে
দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী, মুজাসসামা ও গাধা নিষিদ্ধ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭৯৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭৯৫
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ كُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَالْمُجَثَّمَةَ وَالْحِمَارَ الإِنْسِيَّ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَالْبَرَاءِ وَابْنِ أَبِي أَوْفَى وَأَنَسٍ وَالْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ وَأَبِي ثَعْلَبَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَغَيْرُهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو هَذَا الْحَدِيثَ وَإِنَّمَا ذَكَرُوا حَرْفًا وَاحِدًا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কোন প্রকার শিকারী দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী, চাঁদমারী (নিশানার) লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা প্রাণী (মুজাস্সামা) এবং গৃহপালিত গাধা হারাম ঘোষণা করেছেন।
হাসান সহীহ্, সহীহা (৩৫৮, ২৩৯১), ইরওয়া (২৪৮৮)আলী, জাবির, বারাআ, ইবনু আবী আওফা, আনাস, ইরবায ইবনু সারিয়া, আবূ সা’লাবা, ইবনু উমার ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে অপর একটি সূত্রে আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের বর্ণনায় তারা একটিমাত্র বিষয় উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “শিকারী দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী হারাম ঘোষণা করেছেন”।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খাইবারের দিনের তিন ধরনের নিষিদ্ধ খাবারের কথা এসেছে। প্রথমত, শিকারী দাঁতযুক্ত সব হিংস্র প্রাণী। দ্বিতীয়ত, কোনো প্রাণীকে নিশানার লক্ষ্য বানিয়ে হত্যা করা হলে সেই মুজাসসামা প্রাণী। তৃতীয়ত, গৃহপালিত গাধা। ফলে হাদিসটির কেন্দ্রীয় বিষয় হলো কোন ধরনের প্রাণীর গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এখানে প্রাণীর প্রজাতির পাশাপাশি হত্যার পদ্ধতিও গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ শুধু প্রাণীটি কী, তা নয়; কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও বিবেচ্য। ব্যাখ্যায় ‘দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী’, ‘মুজাসসামা’ এবং ‘গৃহপালিত গাধা’—এই তিনটি অংশই রাখা জরুরি। কোনো এক অংশ বাদ দিলে হাদিসের পূর্ণ শিক্ষা ধরা পড়ে না। তবে প্রদত্ত পাঠ্যের বাইরে অন্য প্রাণীর তালিকা বা নতুন শাস্তির কথা যোগ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করা হয়েছে
- নিশানার লক্ষ্য বানিয়ে হত্যা করা প্রাণী নিষিদ্ধ বলা হয়েছে
- গৃহপালিত গাধার গোশতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে
