২/২০. অধ্যায়ঃ

যার একাধারে কয়েক ওয়াক্তের নামাজ ছুটে গেছে সে কোন ওয়াক্ত থেকে শুরু করবে

খন্দকের দিনে কাজা নামাজ: চার ওয়াক্ত ধারাবাহিক আদায়ের হাদিস

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭৯

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ إِنَّ الْمُشْرِكِينَ شَغَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَرْبَعِ صَلَوَاتٍ يَوْمَ الْخَنْدَقِ حَتَّى ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللَّهُ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعِشَاءَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَجَابِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ لَيْسَ بِإِسْنَادِهِ بَأْسٌ إِلاَّ أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْفَوَائِتِ أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ إِذَا قَضَاهَا وَإِنْ لَمْ يُقِمْ أَجْزَأَهُ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ ‏.‏

আবূ উবাইদা ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে (লড়াইয়ে বিব্রত করে) চার ওয়াক্ত নামাজ হতে নিবৃত্ত রাখে। পরিশেষে আল্লাহর ইচ্ছায় যখন কিছু রাত চলে গেল তখন তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আজান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি আজান দিলেন এবং ইকামত বললেন। তিনি (রাসুলুল্লাহ (ﷺ)) যুহরের নামাজ আদায় করালেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) ইকামত দিলে তিনি আসরের নামাজ আদায় করালেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) ইকামত দিলে তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করালেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) ইকামত দিলে তিনি ইশার নামাজ আদায় করালেন।

হাসান, ইরওয়া-(১/২৫৭)।এ অনুচ্ছেদে আবূ সা’ঈদ ও জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর হাদীসের সনদের মধ্যে কোন ত্রুটি নেই। কিন্তু আবূ উবাইদা সরাসরি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট কিছু শুনেননি। এ হাদীসের ভিত্তিতে এক দল বিদ্বান বলেছেন, এক সাথে কয়েক ওয়াক্ত নামায ছুটে গেলে তার কাযা করার সময় প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৃথকভাবে ইক্বামত দিবে, তবে ইক্বামত না দিলেও চলে। ইমাম শাফিঈ এ মত গ্রহণ করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে ব্যস্ত করে রাখে, ফলে চার ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সুযোগ হয়নি। পরে রাতের কিছু অংশ চলে গেলে রাসূল صلى الله عليه وسلم বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে বললেন। তিনি আযান দিলেন এবং ইকামত বললেন। এরপর রাসূল صلى الله عليه وسلم যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশা ধারাবাহিকভাবে আদায় করালেন; প্রতিটি নামাজের আগে ইকামত বলা হলো। এই হাদিস আমাদের শেখায়, খুব কঠিন অবস্থায় নামাজ ছুটে গেলে সেটি ভুলে যাওয়া হয় না; সুযোগ হলে আদায় করা হয়। এখানে খন্দকের যুদ্ধের একটি বিশেষ পরিস্থিতি আছে, তাই এটিকে সাধারণ অলসতার অজুহাত বানানো ঠিক নয়। হাদিসটি কাজা নামাজ, আযান-ইকামত এবং ছুটে যাওয়া সালাতের দায়িত্ব সম্পর্কে সরাসরি শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কঠিন পরিস্থিতিতে নামাজ ছুটে গেলেও পরে তা আদায় করা হয়েছে।
  • ছুটে যাওয়া নামাজ ধারাবাহিকভাবে আদায়ের বর্ণনা এখানে এসেছে।
  • বিশেষ পরিস্থিতিকে সাধারণ অলসতার অজুহাত বানানো উচিত নয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন